ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / চলতি অর্থ-বছরেও চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ শুরু হচ্ছে না

চলতি অর্থ-বছরেও চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ শুরু হচ্ছে না

চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থ-বছরেও শুরু হচ্ছে না আধুনিক চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ কাজ।

চাঁদপুর বাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবির পেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শহরের মাদ্রাসা রোড়ে প্রায় ৪ একর জমির উপর বিশ্ব-ব্যাংকের অর্থায়নে ৬৭ কোটি টাকা ব্যায়ে আধুনিক নৌ-টার্মিণাল নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিলো।

গত ১০ নভেম্বর একনেকের সভায় চাঁদপুরে আধুনিক এ লঞ্চঘাট নির্মাণের জন্য ৬৭ টাকা বাজেটের অনুমোধন দেয়া হয়। কিন্তু চাঁদপুরবাসীর অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘায়িত করে এ বছর নৌ-টার্মিণালের নির্মাণ কাজ শুরু হবে না বলে চাঁদপুর নদী বন্দর ও নৌ-পরিবহন কর্মকর্তা প্রিয় চাঁদপুরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে আগামী ২০১৭-১৮ আর্থবছরের মধ্যেই এ নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

খোজ নিয়ে জানা যায়, জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি সময়ের প্রয়োজনেই চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল (লঞ্চঘাট) যেনো আধুনিকায়ন করা হয়। এতে করে ঐতিহ্যবাহী এই নৌ-বন্দরটির সাথে দেশের অন্যান্য নদী বন্দরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে।

এছাড়াও চাঁদপুর লঞ্চঘাট আধুনিক ও স্থায়ীভাবে নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় ত্রি-বিভাগীয় কমিটির একটি সুপারিশ দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে দেশের ৩টি লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়। এর মধ্যে ঢাকা সদর ঘাট ও বরিশালের সাথে চাঁদপুর লঞ্চঘাটের নামটিও ছিলো। ইতিমধ্যে ঢাকা সদরঘাট ও বরিশাল লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

কিন্তু চাঁদপুরবাসীর সেই দাবি ও সুপারিশের প্রেক্ষিতেই সরকার এখানকার লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন করার প্রকল্প হাতে নেয় বলে ওই সময়ে জানা যায়।

ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা চলতি বছরের জানুয়ারিতেই নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা জানান। এ নিয়ে স্থানীয় অনেক দৈনিকে সংবাদ প্রচার হয়।

এদিকে আধুনিক চাঁদপুর নৌ-টার্মিণাল নির্মাণ কাজের অগ্রগতি না দেখা যাওয়ায় বুধবার (৭ জুন) চাঁদপুর নদী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা হয়।

তিনি প্রিয় চাঁদপুরকে জানান, ‘শহরের মাদ্রাসা রোডে বর্তমান লঞ্চঘাটটি ২.৪৮ একর জমির উপর অবস্থিত রয়েছে। এই জমির সাথে আরো দেড় একরসহ প্রায় ৪একর জমির উপর দ্বিতল ভবনের লঞ্চঘাট হবে। গত ১০ নভেম্বর একনেকের সভায় লঞ্চঘাট নির্মাণে ৬৭ কোটি টাকার বাজেট অনুমোধন দেয়া হয়েছে। গত জানুয়ারী মাসের এর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি কিছু নিয়ম-কানুনের কারণে এই অর্থ-বছরে তা হচ্ছে না।’

তিনি আরো জানান, ‘এ প্রকল্প বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে হবে। এরইমধ্যে এর কনসালটেশন নিয়োগ প্রায় চুরান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কনসালটেশন নিয়োগের পরেই যাচাই-বাছাই করে এর ডিপিপি চুড়ান্তা করা হবে। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তখন প্রকল্প ব্যায় বারার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি জানান, ‘দুই তলা বিশিষ্ট আধুনিক লঞ্চঘাটে পার্কিং ইয়ার্ড সম্প্রসারণ, এপ্রোস সড়ক, ৭ থেকে ৮টি স্টিল গ্যাংওয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৪টি নতুন পল্টুন, নৌ-পুলিশের স্থায়ী কার্যালয়, যাত্রী বিশ্রামাগার থাকবে। এছাড়া নিশিবিল্ডিং এলাকার উত্তর পাশ দিয়ে ২০ ফুট চওড়া রাস্তাসহ দু’ওয়ানওয়ে রাস্তা হবে। টার্মিণাল ঘাটে প্রায় ৪শ’ থেকে ৫শ’ সিএনজি-অটোরিক্স পার্কিং করা যাবে।

প্রসঙ্গত, প্রায় ২ শ’বছর আগে ডাকাতিয়া-মেঘনা নদী ঘিরে চাঁদপুর নদী বন্দর সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ শাসন আমলে আইজি এন্ড আরসিন কোম্পানী ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে স্টিমারঘাট এবং রেলওয়ে স্টেশন প্রতিষ্ঠা করে চাঁদপুর নৌ-বন্দরের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করে। তখন অবিভক্ত বাংলার সাথে আসাম-বেঙ্গল সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এ নদী বন্দরকে ঘিরেই গড়ে উঠে।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, পাকিস্তান শাসনামলে স্টিমারঘাট, রেল স্টেশন সংলগ্ন স্থানে বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে চাঁদপুর লঞ্চঘাট ও নৌ-বন্দর টার্মিণাল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যায় আকস্মিক ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে চাঁদপুর রেল স্টেশন ও লঞ্চঘাটের অংশবিশেষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে নৌ ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন সরকার পুরাতন লঞ্চ টার্মিনালের কিছু দূর পূর্ব দিকে নতুনভাবে চাঁদপুর লঞ্চঘাট নির্মাণ করে। ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে সৃষ্ট ঘূর্ণিশ্রোতের কবলে কাত হয়ে দ্বিতল একটি লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। সেই সময় শতাধিক যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

পরে নিরাপদ নৌপথ এবং নৌ-দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ শহরের মাদ্রসা রোডে বিকল্প আরেকটি লঞ্চঘাট নির্মাণ করে। পরবর্তিতে বর্ষা মওসুমের তিন থেকে চার মাস মাদ্রাসা রোড়ের অস্থায় ঘাটে লঞ্চঘাট স্থানান্তরিত হতো।

একটা সময় বিকল্প এই লঞ্চঘাটের চাঁদপুর নৌ-টার্মিণালের সকল কার্যক্রম অব্যহত থাকে। অধুনিক লঞ্চঘাট নির্মানের বাজেট অনুমোধন হওয়ায় চাঁদপুর লঞ্চঘাট স্থায়ীভাবে মাদ্রাসা রোড়েই থেকে যাচ্ছে।

মাদ্রাসা ঘাটে স্থায়ী লঞ্চঘাট নির্মিত হলে শুধু চাঁদপুরবাসীই নয়, আশপাশের জেলার নৌ-যাত্রী সাধারণ এর সুফল পাবে। বিশেষ করে ঈদ যাত্রীদের আর হয়রানীর শিকার হতে হবে না বলে মনে করেছেন সুধীমহল ।

প্রতিবেদন: প্রিয় চাঁদপুর রিপোর্ট

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ায় পানিতে ডুবে এক বৃদ্বের মৃত্যু

মোঃ রাছেল, কচুয়া : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের মাঝিগাছা গ্রামের খালের পানিতে ডুবে কাউছার আহমেদ …

vv