ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / গ্রামে গ্রামে ‘গলিয়া’য় সচল গ্রামীণ অর্থনীতি

গ্রামে গ্রামে ‘গলিয়া’য় সচল গ্রামীণ অর্থনীতি

মনিরুল ইসলাম মনির : বাংলা নববর্ষের রং কতটা যে বর্ণিল তা বুঝা যায় মতলব উত্তরের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ ঘুরলেই। বৈশাখ শুরুর আগের দিন চৈত্র সংক্রান্তি থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামে গ্রামে প্রতিদিনই চলছে স্থানীয় ‘গলিয়া’ নামে খ্যাত গ্রামীণ মেলা।

বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী মন্দির, বিদ্যালয় ও মহল্লাভিত্তিক দিনব্যাপী এ গ্রামীণ মেলাগুলোতে রয়েছে প্রাণের স্পন্দন। দেশীয় ঐতিহ্যে পড়তে পড়তে ঠাসা সব ধর্মাবলম্বীদের মিলনমেলা।

দোকানিরা প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে গলিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। উৎসবের রং বইছে প্রান্তিক জনপদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে। জানা যায়, পহেলা বৈশাখের আগেরদিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি থেকে শুরু হয়ে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় ‘গলিয়া’ নামক এ মেলাগুলো বসে আসছে। নতুন বছরের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে শত শত দোকানি এসে মাটিতে বসে পড়ে। নেই ভাড়ার উৎপাত।

এ বছরের প্রতিটি গলিয়াতে হাজার হাজার দর্শণার্থী ও ক্রেতার ভিড় দেখা যাচ্ছে। বছরের এ সময়টাতে অনেকেই তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনে রাখেন। কারণ নানা রকমের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় এ সকল গলিয়ায়। মাটির জিনিস, বাশ বেতের সামগ্রী, খেলাধুলার, খাবার সামগ্রী থেকে সকল প্রকার সামগ্রীই উঠছে গলিয়াগুলোতে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। উপজেলা পরিষদ মাঠ, পাঁচানী চৌরাস্তা বাজার, গজরা, নন্দলালপুর, কালীরবাজার, নতুনবাজারসহ অর্ধশতাধিক স্পটে মাসব্যাপী গলিয়া বসবে।

একমাস ধরে বিভিন্নস্থানে আয়োজিত এ গলিয়ার উপরই গ্রামীণ অর্থনীতি অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে নানান মেলায় রয়েছে দৌড়, কাবাডিসহ হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন। সব মিলিয়ে গ্রামের চিরায়িত বর্ণিল রূপ নতুন বছরকে ঘিরে।

স্বল্প মূল্যে নানা বাহারি জিনিস পেয়ে একদিকে খুশি ক্রেতারা অন্যদিকে ক্রেতাদের উপস্থিতিতে পর্যাপ্ত বেচাকেনায় খুশি বিক্রেতারাও। দেশীয় হারিয়ে যেতে বসা খেলাধুলা দেখেও মিলছে প্রাণের স্পন্দন। গলিয়ায় আসা দর্শনার্থী কিবরিয়া শিকদার বলেন, ছোট বেলা বাবার সঙ্গে গলিয়ায় বেড়াতে আসতাম। গলিয়ায় ঘুরছি দেশীয় খাবার খাচ্ছি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী গলিয়া যেন হারিয়ে না যায় এটাই আমার দাবি।

আরেক দর্শনার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, প্রতিবছর গলিয়ায় বেড়াতে আসি শুধু একটি কারণে তা হলো শুধুমাত্র গলিয়াতেই দেশীয় তৈরি বিভিন্ন প্রকার খাবার, বাঁশ, বেত ও কাঠের তৈরি বাহারী রকমের সামগ্রী পাওয়া যায়।
বিক্রেতা হালিম সর্দার বলেন, সারা বৈশাখ মাস জুড়ে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় গলিয়া হয়। এসব গলিয়ায় আমাদের বিক্রিও অনেক ভালো হয়।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল হক বলেন, গলিয়া খ্যাত এ সকল গ্রামীণ মেলায় প্রচুর লোকের সমাগম হয়। এসব মেলায় শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেলাগুলোতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত করা হয়েছে। কেউ কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments

Check Also

মতলবে পুলিশ পিকআপের সামনে গাছের গুড়ি ফেলে ডাকাতির চেষ্টা, অস্ত্র’সহ আটক ৩

মনিরুল ইসলাম মনির : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পুলিশের পিকআপের সামনে গাছের গুড়ি ফেলে ডাকাতির …

vv