ব্রেকিং নিউজঃ
Home / ফিচার / গ্রামের বাড়িতে কম বেশি সিজনাল ফলের গাছ লাগানো দরকার

গ্রামের বাড়িতে কম বেশি সিজনাল ফলের গাছ লাগানো দরকার

মোহাম্মদ আবদুল হাই পিএএ : ছোটকালে খুব গাছ পাকা ছিলাম। হেন কোন গাছ নেই যে গাছে উঠতে পারতাম না। তেঁতুল গাছে তো জমি হতে চিনকা ডাল ধরে বানরের মতো উঠে যেতাম। কারণ এটি সহজ পদ্ধতি। তেঁতুল গাছের ডাল শক্ত। নারকেল গাছে তো প্রতিদিনই বলতে গেলে উঠতাম। জঙ্গলে গাছের নীচে নারকেলের কাটা অংশের টাল দেখে বাবা বুঝতো সব আমি সাবাড় করেছি। বাজারে নারকেল নিলে বিক্রি হতো না। আর হলেও জোড়া ছয় সাত টাকার বেশি ছিলো না। আমের দিনে ভাই বোনের মধ্য খুব সকালে পাকা আম পাড়া ও খাওয়ার প্রতিযোগিতা হতো বলা যায় । অনেক আম গাছ- যে যার মতো পেড়ে খেতো। আর ছেলে হিসেবে আশপাশের বাড়ি কাঁচা মিষ্টি আম চুরি করা কোন ব্যাপারই ছিলো না। গাছের মালিকরা অবশ্য আমাকে দেখলেও কিছু বলতো না। কারণ এলাকার ভদ্র ছেলে সবার প্রিয় ছিলাম।

আরও পড়ুন… চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় করোনা রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছে SADO

এক দাদা খালি দোড়ানি দিতো। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন দাদা অসুস্থ হলে তাকে দেখতে গিয়ে তার গাছের কলকিচ্ছা বরই, আম ও জমি হতে ফুট(বাঙ্গি) চুরির কথা বললে দাদা কেঁদে দিলো। বুঝলাম , নাতির প্রতি ভালোবাসা। সময়ের প্রেক্ষাপট বদলেছে। সবার দাদা দাদি ফলের গাছ লাগাতো। কিন্তু আমরা যে ভবিষ্যতে দাদা দাদি হবো , আমরা কি আমাদের নাতি নাতনিদের জন্য ফলের গাছ লাগাবো? মনে হয় না। কারণ গাছ না লাগিয়ে অন্য কিছু করলে লাভ বেশি।

এ জন্য বাজারে আজ গিয়ে যা দেখলাম:
(১) একটি ডাবের দাম চাইল ১২০ টাকা। অথচ জীবনে ডাব কিনে খেতে হবে তা ভাবতেই হাসি পেতো।
(২) তরমুজের কেজি ৭০ টাকা । অথচ জমিতে মরিচের ক্ষেতে তরমুজ ও বাঙ্গি চাষ করতাম।
(৩) একটি বেল ১৫০ টাকা। অথচ গ্রামে মাগনা দিলেও কেউ নিত না।
(৪) কাঁচা আমের কেজি ১২০ টাকা। অথচ তুপানে কাচা আম পড়ে পড়ে পঁচে যেত।
(৫) তেতুলের কেজি ৪৫০ টাকা। অথচ তেঁতুল গাছেই পেকে ঝুলে থাকতো।
(৬) লেবুর ডজন ২৮০ টাকা। অথচ এক সময় গ্রামে এগুলি কেনার কাস্টমার ছিলো না।
(৭) বর্ষাকালে কালো জাম পেকে জমিতে পড়ে পঁচে ভেসে উঠতো।

এ রকম হাজারো উদাহরণ কম বেশি সবার গ্রামের বাড়িতে আছে যার তালিকা বিশাল লম্বা হতে বাধ্য । কিন্তু সময় ও যুগের প্রেক্ষাপটে কিনে খাওয়ার মন মানসিকতা আমাদের দাদা দাদীদের মতো হতে দিচ্ছে না। ফলে ফল কিনে যে বিষ খাচ্ছি মনের অজান্তে তা খাওয়ার পরে বুমি, পেট ব্যথা , ডাইরিয়া ইত্যাদি হলে বুঝা যায় ।

তাই সময় এখন শিক্ষিত প্রজন্মকে একটি বার হলেও অশিক্ষিত দাদা দাদি হতেই হবে। ভবিষ্যতে নাতি নাতনির জন্য সুস্বাদু রসালো নির্ভেজাল ফলের ব্যবস্থা করে যেতে হবে। এখন থেকেই বিভিন্ন ফলের চারা রোপণের সময় সামনে আসছে। অন্তত ছেলেমেয়ের জন্য না হলেও নিজের নাতি নাতনির জন্য একটি সুস্বাদু ও রসালো ফলের গাছ লাগাই । বিষমুক্ত ফল খাই।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে শুক্রবার ১১৫ নমুনায় ৩ জনের করোনা শনাক্ত

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে নতুন করে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সনাক্তের হার ৩.১৫%। শুক্রবার …

Shares
vv