ব্রেকিং নিউজঃ
Home / সাহিত্য / ক্ষয়প্রাপ্তি… জুয়েল রানা তালুকদার

ক্ষয়প্রাপ্তি… জুয়েল রানা তালুকদার

আমি যা দেখি, তাই-কি তুমি দ্যাখো? কি দ্যাখো?” এক বন্ধু এটা জিজ্ঞেস করত। তারপর বাকি বন্ধুরাও সবাই মিলে তা দেখে নিতাম। ছোটবেলায় আমরা এমন একটি খেলা খেলতাম। জানেনতো দেশ এখন ডিজিটাল! তাই এ খেলাটিরও ডিজিটাল ভার্সন হয়েছে- “আমি যা করি তাই-কি তুমি করো?”হ্যাঁ, আমি বর্তমান অস্থির সময়ের সমাজিক অবক্ষয়ের কথাই বলছি।

অবক্ষয় শব্দের আভিধানিক অর্থ “ক্ষয়প্রাপ্তি” সামাজিক মূল্যবোধ তথা সততা, কর্তব্য, নিষ্ঠা, ধৈর্য্য,উদারতা, শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, নান্দনিক সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলী লোপ পাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে বলে সামাজিক অবক্ষয়।

বর্তমান যুগ সামাজিক অবক্ষয়ের শীর্ষে। বর্তমান সময়ে সামাজিক অপরাধ গুলো মাত্রা অতিক্রম করতে চলেছে। এ অবস্থায় এখনই লাগাম টেনে ধরা না গেলে আগামীতে ভয়াবহ রূপ নেবে সামাজিক অপরাধ। দেশে ভয়াবহ ব্যাধির মতো দানা বাঁধছে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়। আর নীতি-নির্ধারক মহলের অবহেলা আর নজরদারির অভাবে সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার ব্যক্তিদের প্রাণহানির ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

সামাজিক অক্ষয়ের কতগুলো কারণ, যেমন: ১.নৈতিক শিক্ষার অভাব ২.শাসক যখন শোষকে পরিণত হয় ৩. অবিচার ও অনিয়ম প্রতিষ্ঠিত হওয়া ৪. পদের লোভ ৫. তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার ৬. মাদক ও জুয়ার প্রতি আসক্ত ৭.  অর্থের প্রতি লালসা ৮. অপসাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রভাব ৯. নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ১০. বিষর্ণতা ১১. একক সিদ্ধান্ত ১২. প্রেম, পরকীয়া, অবৈধ সন্তান ১৩. প্রযুক্তির অপব্যবহার ১৪. নির্যাতন ও সম্ভ্রমহানি ১৫. যৌতুক ১৬. হত্যা, আত্মহত্যা ও গুম ১৭. অপহরণ, নারী পাচার ১৮. ডিভোর্সের আধিক্য ১৯. এসিড নিক্ষেপ ২০. মানসিক ও দৈহিক নির্যাতন ২১. সাইবারক্রাইম-পর্ণোগ্রাফী, ব্ল্যাকমেইলিং ২২. পারিবারিক বিশৃংখলা ২৩. পতিতাবৃত্তি ২৪. সুদ-ঘুষ, চোরাকারবারী ২৫.বিশ্বাস ঘাতকতা ২৬. ইভটিজিং ২৭. অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন ২৮.সমালোচনা ২৯.অশ্লিল চলচ্চিত্রের প্রভাব ৩০.বিজ্ঞাপন, ম্যাগাজিন ও কার্ডে অশ্লীলতা ৩১. কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও মোবাইল ৩২..অনুষ্ঠান-উৎসবে নারীকে খোলামেলা উপস্থাপন (বি:দ্র:-এই সব কারন গুলোর ব্যাখা যদি জানতে চান তাহলে অবশ্যই একটা একটা করে ব্যাখা সহকারে লেখতে চেষ্টা করবো) ইত্যাদি ইত্যাদি আরও লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কার্যকর বিচার ব্যবস্থার অভাবে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

এখনই সচেতন না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।বহু সামাজিক অপরাধের পেছনে বিষর্ণতা দায়ী। দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ অতিমাত্রায় বিষর্ণতায় আক্রান্ত। বিষর্ণতা থেকে যদি তাদের ফিরিয়ে আনা না যায়, তবে সামাজিক অপরাধের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। সামাজিক অবক্ষয় ও প্রতিকার বেড়েই চলছে , নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমাদের নৈতিকতা, সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সুশিক্ষিত জাতি আর আমরা। আমাদের মন মানসিকতা থেকে হারিয়ে ফেলতেছি পারিবারিক, সামাজিক ও গুরুজনদের থেকে পাওয়া নৈতিক শিক্ষা। যেখান থেকে আমরা শিখেছিলাম নম্রতা, ভদ্রতা, সততা, সভ্যতা আর সামাজিক কৃষ্টি কালচার এবং একে অপরের প্রতি পারস্পারিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতা। ধীরে ধীরে আমরা কোন রকমে ভদ্রতার লেভাসে মুখ ঢেকে একটা স্বার্থপর জীবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এর সাথে সমাজটাকে তুলে দিচ্ছি কিছুসংখ্যক দুষ্ট, খারাপ ও বিকৃত মনের লোকজনের হাতে।

আর আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাচ্ছি অনিশ্চিত, নিরাপত্তাহীন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজ ব্যবস্থা।আমরা নিজেদের মুখ লজ্জার চাঁদরে ঢেকে রেখে কোন রকমভাবে নিজেদের দ্বায়ভার এড়ানোর চেষ্টা করতেছি। আর নিজেকে নিজে বলতেছি আমি তো সাধারন মানুষ আমার কি করার আছে। একবার মনে মনে ভেবে দেখুন এটার নাম কি কাপুরুষতা না? আপনি জানেন কী? আপনার একটু সচেতনতা, একটু সৎ সাহসিকতা, একটু নৈতিকতা, একটু আন্তরিকতা একটু সহযোগিতা আর একটু প্রতিবাদের অভাবে দিনের পর দিন ঘটে যাচ্ছে আমার এবং আপনার পরিবার ও সমাজের সাথে নানাবিধ অনৈতিক ঘটনা। এর সাথে সাথে বেড়েই চলেছে সামাজিক অবক্ষয়, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমাদের নৈতিকতা, সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সুশিক্ষিত জাতি, আমরা হারাচ্ছি আমাদের আত্নসন্মান ও সামাজিক মর্যদা।আসুন আমরা আগে নিজেকে সচেতন ও পরিবর্তন করি এবং অন্যকে সচেতন ও পরিবর্তন হতে সহযোগিতা করি। মনে রাখবেন “ভদ্রতা মানে দুর্বলতা নয়” আর কাপুরুষ হয়ে বেচে থাকার নাম জীবন নয়”

-লেখক: মানবাধিকার ও সমাজকর্মী, প্রধান সম্পাদক “প্রিয় চাঁদপুর”

Facebook Comments

Check Also

সাহিত্য মঞ্চের উদ্যোগে চাঁদপুরে শতাধিক পরিবারকে ঈদ উপহার প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : লেখকগণ কেবল সাহিত্যকর্মেই মানুষ ও মানবতার কথা বলেন তা কিন্তু নয়। পৃথিবীর …

vv