ব্রেকিং নিউজঃ
Home / খেলাধুলা / ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী চাঁদপুরে ছেলে শামীম ও জয় পাচ্ছে গণসংবর্ধণা

ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী চাঁদপুরে ছেলে শামীম ও জয় পাচ্ছে গণসংবর্ধণা

অমরেশ দত্ত জয় : ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশ নেওয়া চাঁদপুরের ছেলে শামীম পাটোয়ারী ও মাহমুদুল হাসান জয়কে গণসংবর্ধণা দেওয়া হবে।

১১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার এ তথ্য জানান চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লা আল মাহমুদ জামান। তিনি বলেন,শামীমের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়ায় ও মাহমুদুলের বাড়ি রামপুর এলাকায়।

আমরা চাঁদপুরের এই দুই কৃতি ক্রিকেটারের আসার অপেক্ষায় আছি। তারা আসলেই তাঁদেরকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। এছাড়াও ফরিদগঞ্জেও তাদেরকে পৃথক সংবর্ধনা দেওয়ার নানা আয়োজনের প্রস্তুতির খবর রয়েছে।

এদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ে চাঁদপুর থেকে অংশ নেওয়া শামীম ও মাহমুদুলের জন্য পুরো চাঁদপুর জুড়ে বইছে বাঁধভাঙ্গা উল্লাস। তাদের বাবা-মা,ভাই-বোন ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, ক্লেমন চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমির কোচ ও শিক্ষানবিশ ক্রিকেটারবৃন্দ এবং চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার লোকজন সহ পুরো চাঁদপুরবাসী খুশিতে আত্মহারা। এখন সবাই অপেক্ষায় রয়েছে কখন এই কৃতি ক্রিকেটারদ্বয় চাঁদপুর ফিরছে।এদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় ক্লেমন চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমির কোচ শামীম ফারুকী বলেন, মূল দলের ১৪ জনের মধ্যে আমার দু’ছাত্র শামীম পাটোয়ারী ও মাহমুদুল হাসান জয় অংশ নিলো।তাই আমি অত্যান্ত খুশি।

আমি আশাবাদী আগামীতে তারা জাতীয় দলের হয়ে খেলবে এবং চাঁদপুর তথা দেশের ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, শামীম পাটোয়ারী অসাধারণ মেধাবী এবং মাহমুদুল হাসান জয় দারুন পরিশ্রমী খেলোয়াড়। তারা আমার কাছে স্কুলে পড়াকালে দুই বছর প্রশিক্ষণ নেয়। পরে তারা বিকেএসপিতে সুযোগ পায়।

ছেলেকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখে শামীমের বাবা ফরিদগঞ্জ উপজেলাস্থ ধানুয়ার আব্দুল হামিদ পাটওয়ারী জানান, আমি এক সময় ঠিকাদারী করতাম। এখন বয়সের কারণে বাড়িতেই থাকি।গেলো রোববার রাতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলায় ছেলে অংশ নেয়ায় পুরো খেলাটি দেখেছি। এতে আমার চোখের কোণে খুশিতে পানি চলে এসেছে।

তিনি বলেন, আমি খুবই খুশি।কারন ছেলেকে যখন স্কুলে পাঠাতাম। তখন সে স্কুলে না গিয়ে শুধু ক্রিকেট খেলার জন্য মাঠে পরে থাকতো। এখন বুঝতে পারলাম সে মাঠে ক্রিকেটে মনযোগ দিয়ে ভালোই করেছে। আমাদের সম্মান আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। শামীমের মা রিনা বেগম বলেন,শামীম হলো ওদের পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট।আমি ছেলের খেলা দেখে শুধু দোয়া করেছি। সে এবং তার দল যেন জয়লাভ করতে পারে।

ধানুয়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শামীম গাজী বলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অংশ নেয়া শামীম পাটোয়ারী আমাদের স্কুলের ছেলে। সে স্কুলে পড়ালেখার পাশাপাশি আমাদের স্কুলের সব ধরনের খেলায় অংশ নিয়ে থাকতো। আমরাও তাকে খেলাধুলায় অংশ নিতে সব সময় আগ্রহ দেখিয়েছি। আর এখন সে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলে দেশের ও আমাদের মর্যাদা রেখেছে।

অন্যদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রামপুর বাজার সংলগ্ন মাহমুদুল হাসান জয়ের বাড়ি। তার বাবা আব্দুল বারেক চাঁদপুর পূবালী ব্যাংক নতুন বাজার শাখার সিনিয়র অফিসার। জয় তার তিন ভাইয়ের মধ্যে ২য়।জয়ের বাবা বলেন, সে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ক্রিকেট খেলায় খুব বেশি আগ্রহ দেখাতো। যখন দেখলাম ক্রিকেটে খুব ভালো করছে। তখন জয়কে চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করে দেই। তখন জয়কে তার মা সহ শহরে একটি বাসা ভাড়া করে রাখি। টানা দুই বছর সেখানে কোচ শামীম ফারুকীর কাছে সে প্রশিক্ষণ নেয়। পরে তার এক চাচা যিনি সেনা বাহিনীর অফিসার।তিনি জয়কে বিকেএসপিতে নিয়ে ভর্তি করায়।

এখন সে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশ নিয়ে সবার মান রক্ষা করেলো। আমরা এ জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আগামীতে সে যেন আরো ভালো খেলতে পারে এই দোয়া কামনা করছি। জয়ের মা হাসিনা বেগম বলেন, আমি সবার কাছে অনুরোধ করবো। আমার ছেলে যেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পায় এই দোয়া করতে।

Facebook Comments

Check Also

হাজীগঞ্জে গোবিন্দপুর প্রিমিয়ার লীগের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার : হাজীগঞ্জের গোবিন্দপুর প্রিমিয়ার লীগের (ফুটবল) ১১তম আসরের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন …

vv