ব্রেকিং নিউজঃ
Home / অর্থনীতি / করোনা পরিস্থিতিতে সর্বমহলে প্রশংসিত ব্র্যাকের রামপুরের কার্যক্রম

করোনা পরিস্থিতিতে সর্বমহলে প্রশংসিত ব্র্যাকের রামপুরের কার্যক্রম

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি, হাইমচর : ১৯৭১সালের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে অর্থনৈতিক ভাবে বিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়ে ১৯৭২ সালে এনজিও ব্র্যাকের অনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যত্রম শুরু করে।  সেই থেকে শুরু করে বাংলাদেশের যেকোন দুর্যোগ মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি সর্বপ্রথম যেই বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে এসেছে তা হলো স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক।

দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শুরু থেকেই ব্র্যাক চাঁদপুর জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে এবং পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লায় মাইকে প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতনতা করা, মাস্ক, লিফলেট বিতরণ ও বাড়িতে বাড়িতে স্টিকার লাগানো, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বৃত্ত অংকন, গাড়ীতে জীবানুনাশক স্প্রে করা, হাট-বাজার ও শহরের বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানির ব্যবস্থাকরণসহ ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচী যেমন, স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচী, সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচী, শিক্ষা কর্মসূচীর মাধ্যমে অতি দরিদ্র পরিবারকে নগদে এবং বিকাশের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা প্রদানসহ নানাবিদ কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছে।

বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের ভয়ে সারা দেশের মানুষ যখন আতঙ্কিত হয়ে সবকিছুই থমথমে অবস্থা, ঠিক সেই সময় থেকে সরকারের নিদের্শনা মেনে ব্র্যাক ফরিদগঞ্জ উপজেলার রামপুর শাখা এরিয়া অফিসের কর্মীরাও সাধারণ ছুটি ও ঈদুল ফিতরের ছুটি ওপেক্ষা করে, পরিবারের মায়া ত্যাগ করে করোনা সংক্রামণের প্রথম থেকেই তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের টাকা গ্রহণ না করে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ঋণ, কৃষি ঋণ সঞ্চয়ের টাকা প্রদান করছেন। কোভিড-১৯ সম্পর্কে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুবিধা ভোগীদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও খোঁজ-খবর রাখছেন ব্র্যাক কর্মীরা। দুঃসময়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ব্র্যাকের এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগকে প্রশংসা জানিয়েছেন ঋণসহ সঞ্চয়ের টাকা পাওয়ায় সুবিধাভোগীরা।

সরেজমিনে ব্র্যাকের  রামপুর কার্যালয়ে গিয়ে জানাযায়, সঙ্কটকালিন সময়ে ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সদস্য-সদস্যাদের চাহিদা মাফিক ঋণ প্রদান, গ্রামীণ কৃষিকে সচল রাখতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি ঋণ প্রদান, খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্য-সদস্যাদের সঞ্চয়ের টাকা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ঋণ ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রামপুর শাখার সুবিধাভোগী   রাজিয়া বেগম বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সঠিকভাবে হাত ধোয়ার কৌশল এবং সামাজিক দূরত্ব বলতে কতটুকু দুরত্ব বজায় রাখতে হবে সেটা আমরা ব্র্যাকের মাধ্যমে জেনেছি। তাছাড়া করোনা মোকাবেলায় মাইকিং করা, লিফলেট বিতরণ, অর্থিক সহায়তা প্রদান করা থেকে শুরু করে সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাক সমান তালে সকল পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে যা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।

রামপুর বাজার ব্যবসায়ী মোঃ মাসুদ মিয়া জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের ব্যবসা বাজিন্য বন্ধ এবং বিদেশ থেকেও টাকা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিস্তির টাকা দিতে পারেনি সেই সময় ব্র্যাকের ভাই ও বোনেরা ফোন করে হাতে টাকা পয়সা আছে কিনা এবং ঘরে খাবার আছে কিনা সে ব্যপারে সব সময় খোঁজখবর নিয়েছেন। ঘরে যখন টাকা ছিলোনা তখন আমাদের বিকাশের মাধ্যমে সঞ্চয় ফেরত দিয়েছেন। এছাড়াও ব্র্যাক অফিস থেকে বলেছে যারা পারবেন বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিবেন না পারলে কোনচাপ নাই। সঞ্চয়ের টাকা নিতে এসেও কোনপ্রকার হয়রানীর শিকার হই নাই। বরঞ্চ তাদের আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ। ব্র্যাকের এধরণের কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা বিকাশের মাধ্যমে আমাদের সঞ্চয়ের টাকা পরিশোধ করছেন। এই দুর্দিনে আমাদের সহায়তা না করলে দিন পার করা মুশকিল হয়ে যেতো।

ব্র্যাক রামপুর শাখার এলাকা ব্যবস্থাপক (দাবী)   মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কিস্তি আদায় বন্ধ রেখেছি। তবে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আমারা ঋণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। সদস্যদের চাহিদা মোতাবেক বিকাশের মাধ্যমে সঞ্চয় ফেরত দিয়ে যাচ্ছি। তবে যে সকল সদস্যদের আর্থিক অবস্থা ভালো এবং কিস্তি দিতে আগ্রহী তারা বিকাশের মাধ্যমে কিস্তি প্রদান করেছেন। দেশের এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন তাই আমরা সদস্যদের অফিসিয়াল বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনে উৎসাহিত করছি। তিনি বলেন, ব্র্যাক সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। দেশের এই দূর্যোগ মুহুর্তে ব্র্যাকের কর্মকান্ডে সংক্রিয় অংশগ্রহন করতে পেরে নিজেকে একজন গর্বিত মানুষ হিসেবে নিজেকে আত্বপ্রকাশ করতে পেরেছি।

ব্র্যাকের  রামপুর শাখা এলাকায়   ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের বিধিনিষেধ অনুযায়ী কাউকে ঋণ পরিশোধ করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে না। বরঞ্চ অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে আমরা ঋণ প্রদান করছি। করোনাভাইরাসের কারণে এছাড়াও ডিপোজিট ও সঞ্চয়ের টাকা কেউ নিতে চাইলে বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। তবে যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো আছে তারা বিকাশের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করছেন। তিনি আরো বলেন, ঋণ উত্তোলন না করে এখন মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।

ব্র্যাকের চাঁদপুর  অঞ্চল-১ আঞ্চলিক  ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মো. মনির উদ্দিন ও  অঞ্চল ২ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক  (দাবী) এ.এস.এম কামরুল হাসান বলেন, আমরা আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ  বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (প্রগতি).  মোঃ মারুফ হোসেন ও বিভাগী ব্যবস্থাপক (দাবী) রাজেশ কুমার সাহার নির্দেশে ও শাখা ব্যবস্থাপক(দাবী) মোঃ হাসান আলী পাঠান, সহকারী শাখা ব্যবস্থাপদ (দাব)  মোঃ খোরশেদ আলম  তত্ত্বাবধানে   স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ তাদের আয় রোজগারের পথ হারিয়ে ফেলেছেন, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের মুলধন খেয়ে ফেলেছেন, এমতাবস্থায় ঋণের বকেয়া থাকা সত্বেও কিভাবে নতুন করে রিফাইন্যান্স করে সদ্যদের আয় রোজগারের পথকে সচল রাখা যায় সে ব্যাপারে আমাদের উর্ধ্বেতন কর্তৃপক্ষ বিচার বিশ্লেশান করছেন। শাখা ব্যবস্থাপক মোঃহা সুস্পষ্ট গাইডলাইন পেলে আমরা সে অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম আবার নতুন করে শুরু করবো।

Facebook Comments

Check Also

মতলবে ম্যাক্স গ্লোবাল কর্পোরেশনের জোনাল অফিস উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি : ‘আমার মোবাইল আমার দোকান’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ই-কমার্সের মাধ্যমে মতলব দক্ষিণ উপজেলার …

vv