Home / শিক্ষা / করোনা পরিস্থিতিতে বেকায়দায় হাইমচরের কিন্ডারগার্টেন

করোনা পরিস্থিতিতে বেকায়দায় হাইমচরের কিন্ডারগার্টেন

হাইমচর প্রতিনিধি : চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলায় সারা দেশের ন্যায় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্ডারগার্টেন গুলোও সরকার ঘোষিত প্রজ্ঞাপন মেনে যথারীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র উপর সর্ম্পূন র্নিভরশীল চাঁদপুর জেলার হাইমচরের ১৫টি বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুলের-শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। অল্প বেতনের প্রাইভেট টিউশনি র্নিভর এই পেশাজীবিদের আয়ের প্রধান উৎস টিউশনিও বন্ধ হয়ে গেছে। করোনা মহামারির শুরু থেকেই আর্থিক সংকটের কারণে অনেক স্কুল বন্ধ হওয়ার পথে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ক্রয়কৃত জমির ওপর প্রতিষ্ঠত থাকলেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ভাড়া করা ভবনে।
ফেব্রুয়ারী থেকে চলমান মাস পযন্ত বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ সকল বিল পড়েছে বকেয়া। অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদেরও এ দূর্যোগ সময়ে প্রতিষ্ঠান হতে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ সময়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
করোনা সংক্রমনের কারণে গত ১৭র্মাচ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব স্কুলের সাথে সম্পৃক্তরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ অবস্থায় কিন্ডারগার্টেণে কমরত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের দুরবস্থার প্রতি দৃষ্টি দেয়ার জন্য মাতৃতুল্য দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. দীপু মনির প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন হাইমচর উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম।
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর পরিস্থিতিতে অথেনৈতিক সংকটে পড়া এসব প্রতিষ্ঠানের কমরত শিক্ষকরা স্বল্প বেতন ও প্রাইভেট টিউশনির ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু মহামারির কারণে তাদের প্রাইভেট টিউশনি একেবারে বন্ধ হয়েগেছে। এ কারণে অনেকের পরিবার পড়ছে আর্থিক সংকটে।
শিক্ষক-কমচারীরা না পাচ্ছেন স্কুলের বেতন, না পাচ্ছেন টিউশনির বেতন। নিদারুন অর্থ সংকটে পড়ে তারা এখন চোখে অন্ধকার দেখে নিরুপায়।
হাইমচর উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন এর সভাপতি ফাতেমা বেগম জানান-হাইমচরে কিন্ডার গার্টেনের সংখ্যা ১৫টি। শিক্ষাথী প্রায় আড়াই হাজার এবং শিক্ষক কর্মচারী আছেন আরো ২৫০জন। তিনি বলেন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমনের কারণে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা গত ১৭ র্মাচ থেকে বিদ্যালয় গুলো বন্ধ রেখেছি। পবিত্র মাহে রমযান ও পবিত্র ঈদুল ফিতর পার করে কোনমতে দিন যাচ্ছে শিক্ষক কমচারীদের, আমরা সীমাহীন চাপের মধ্যে আছি। একদিকে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন খাতের টেনশন অন্যদিকে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের চাপ। সব মিলে সামনের দিনগুলোতে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থা টিকিয়ে থাকা নিয়েই সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তোলেনের জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. দীপু মনির আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
তথ্যমতে , ০৬ দফায় ছুটি বাড়িয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে গুলো বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। আবারও বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি ১৫জুন পযন্ত অথ্যাৎ জুলাইয়ের আগে আর খুলছে না কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো। জুন পযন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস ছুটিতে ব্যাক্তি মালিকানাদিন এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা –কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অর্থনৈতিক সংকটে মানবেতর জীবন যাপনের সম্মুখিন।
নিজেদের দূরবস্থার সম্পর্কে কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কমচারীগণ জানান সামান্য বেতনে চাকুরী কোন রকমে সংসার চলত। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ বেতন ও পাচ্ছেনা । বর্তমানে খুবই অসহায় অবস্থায় আছি। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষিকা এবং কর্মচারীদের সরকারি ভাবে সহযোগীতা কামনা করছি।
Facebook Comments

Check Also

বহরিয়া নুরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনের কাজ সমাপ্ত

সজিব খান : চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের বহরিয়া নুরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ তলা …

vv