ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / করোনায় চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘গড় বিল’ নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

করোনায় চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘গড় বিল’ নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

মোঃ রাছেল, কচুয়া : চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র ‘গড় বিলের’ হিসাব নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কচুয়ার হাজার হাজার গ্রাহক। করোনাভাইরাস প্রাদুভাবের কারণে বাড়ি বাড়ি না গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে অফিসে বসেই প্রত্যেক গ্রাহকের গড় বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে। কিন্তু এতে ফেব্রুয়ারী, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল ও মে মাসের বিদ্যুৎ বিল প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক।

সরকারের অগ্রাধিকার উদ্যোগ বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে দেশব্যাপী বিদ্যুৎ খাতের উত্তরণ এখন দৃশ্যত। লোডশেডিং, যান্ত্রিকত্রুটি, সিস্টেমলস, মিটারচুরি, সংযোগ ভোগান্তি ইত্যাদি নামের সমস্যাগুলির স্থান এখন যাদুঘরে। অথচ নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার গ্যাড়াকলে গ্রাহক ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি আজও পর্যন্ত নিত্য সঙ্গী হয়ে আছে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অনেক গ্রাহকের।

তাদের অভিযোগ বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের তুলনায় কিঞ্চিত উত্তরণ হলেও প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উর্ধ্বে থেকে দিনের পর দিন মাস বা বছর ধরে মনগড়া ভৌতিক বিলের খড়গ চাপিয়ে নানামুখি ভোগান্তিসহ গ্রাহকের পকেট কেটে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বিরুদ্ধে।

এমনকি করোনাকালে গ্রাহক স্বার্থে দেওয়া সরকারি নির্দেশও মানা হয়নি। তবে বিল ভোগান্তির সত্যতা স্বীকার করে পরবর্তী মাসে তা ঠিক করে দেওয়ার কথা জানালেন কর্তৃপক্ষ। যদিও বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না কোনো গ্রাহক।

কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন বলেন, জানুয়াারি-ফেব্রুয়ারী মাসে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গড় বিদ্যুৎ বিল ১৫৭ টাকা বিলের তুলনায় মার্চ, এপ্রিল মাসে অফিসে বসে গড় বিলের নামে আমার বিল করে দিয়েছেন ৩৬০ টাকা এবং ৩৪৪ টাকা। অপরদিকে আমার বাড়ির এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ বিল ৩৫০ টাকা, মে মাসে ৪০২ টাকা ও জুন মাসে ৩৭৩ টাকা এসেছে। অথচ লকডাউনের ফলে আমি এবং পরিবার বাড়ির বাহিরে ছিলাম। এছাড়াও ২০১৯ সালে আমার একটি দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। দোকানটি বাড়া হবে বিধায় জুন মাসে বিদ্যুৎ সংযোগ পুণরায় চালু করি। এরই মধ্যে জুলাই, আগষ্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাসের গড় বিল এসেছে ২৯৮ টাকা। অথচ জুন মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৩৫১৫ টাকা। তাহলে এটা কোন জাতীয় গড় বিল? পল্লী বিদ্যুৎ একবার যে বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপায় তা আদায় করেই ছাড়ে।

তিনি আরো বলেন, এ যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া, একদিকে করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত লকডাউন বা সাধারণ ছুটিতে কর্মহীন ঘরবন্দি মানুষের আর্থিক ও খাদ্য সংকটে জীবন-জীবিকা নাভিশ্বাস। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিলে বিলম্ব মাসুল মওকুফসহ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে সরকারি নির্দেশনাকেও মানছেন না। গড় বিলের কথা বলে দ্বিগুন বা তিনগুন বেশি ভৌতিক বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ। সময় মতো বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলেই লাইন বিচ্ছিন্ন করবে এবং পুনঃসংযোগ দেওয়ার সময় গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে ভোগান্তিও রয়েছে।

কড়ইয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মোঃ রাছেল বলেন, করোনার কারণে বাড়ি আসবে না বলে মিটার না দেখে বিল করেছে পল্লী বিদ্যুৎ, তবে বিলের কাগজ ঠিকই বাড়ি বাড়ি বিলি করেছে। এটা একটা ধোঁকাবাজি। গড় বিলের নামে ডবল বিল করেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে মাঝে মধ্যেই এমন মনগড়া ভৌতিক বিলের ঘানি টানছেন। নিয়ম না মেনে এভাবে অতিরিক্ত বিলের টাকা আদায় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে এই গড় বিল করার ফলে উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আগত গ্রাহকরা জড়ো হওয়ায় সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘনসহ ভোগান্তির মুখে বিল সংগ্রহ বুথের কর্মীরাও। তবে গড় বিলের কথা বলে প্রস্তুতকৃত বিল শুধুমাত্র বেশি হয়েছে কম হয়নি কেন এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মকর্তারা।

এছাড়া এসব ভুতুড়ে বিল সংশোধন করতে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অফিসে এসেও হয়রানির শিকার হন গ্রাহকরা। সেইসঙ্গে সমিতির ভুল হওয়া সত্ত্বেও ডুপলিকেট ফি বাবদ কেটে নেওয়া হয় টাকা। সেইসঙ্গে অদৃশ্য কারণে ডিমান্ড চার্জের নামেও নেওয়া হয় অতিরিক্ত টাকা। গ্রাহকদের বছরের পর বছর মিটার ভাড়াও দেওয়া লাগে এমন অভিযোগের পাহাড় রয়েছে এ সমিতির বিরুদ্ধে।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, করোনাকালে সরকারি নির্দেশনায় গড় বিল করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে গ্রাহকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডাররা রিডিং নিতে পারেননি। তাই প্রত্যেক গ্রাহকের গড় বিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত বিলের সমস্যা যাদের হয়েছে তাদের বলেছি, ধৈর্য ধরুন পরবর্তী মাসের বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হবে। তবে ভৌতিক বিল করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।

Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তিতে শিশু আনিসার দাদীর সঙ্গে গিয়ে দাদার মাছের খামারে মৃত্যু

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে শিশু আনিসা আক্তার নামে ১৮ মাসের এক শিশু দাদীর …

vv