ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / করোনায় চরম বিপাকে চাঁদপুরের খেটে খাওয়া নিন্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবার

করোনায় চরম বিপাকে চাঁদপুরের খেটে খাওয়া নিন্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবার

মাসুদ হোসেন : প্রাণঘাতি বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমাতে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়েছে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেবে বের না হওয়া এবং সকলকে বাড়িতে অবস্থান করার জন্য দেয়া হয়েছে নির্দেশনা। লক ডাউন করা হয়েছে পুরো দেশ। এই লক ডাউনের কারনে বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে চাঁদপুরের খেটে খাওয়া শ্রমিকেরা। তারা বর্তমানে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে কষ্টে দিন কাটছে শ্রমজীবী মানুষের পরিবারের।

দূর্যোগের এই মুহুর্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেশীরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই নিন্ম ও মধ্যবিত্তদের। এর মধ্যে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ক্রোকারিজ, সেলুন, চা স্টল, প্রসাধনী, ফার্নিসার, মোবাইল সামগ্রী ইত্যাদি দোকান বন্ধ রয়েছে।

এদিকে কৃষক, দিনমজুর, রিকশা, সিএনজিসহ ভারি যানবাহনগুলো চলাচল বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছে চালক, মালিক ও কর্মরত শ্রমিকরা। যারা কিনা দিন রাত পরিশ্রম করে রোজগারের টাকা দিয়ে পরিবারের সাথে দু’মুঠো খাবার খেতে পারতো। কিন্তু এসবকিছু বন্ধ থাকায় তাদের জীবন যেন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে পারছে না খেটে খাওয়া মানুষগুলো। এতে সামনের দিনগুলো নিয়ে খুবই চিন্তিত তারা। এছাড়াও রয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরীজীবি সাধারন মানুষ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের টাহরখীল গ্রামের মৃত নোয়ার আলী খানের পুত্র কৃষক মোঃ আব্দুল বশির জানান, আমরা কোন রকম জমিজমা চাষ করে চালাই সংসার। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতির যেই অবস্থা অন্য লোক দিয়ে যে কাজ করাবো সেই সামর্থও তো নেই। আয়ের উৎস না থাকায় সবকিছুই যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। মহামামায়া বাজারে রিকশা চালক মো: সেলিম মিয়া জানান, মানুষ ঘর থেকে বের না হতে নির্দেশনা থাকায় রাস্তাঘাট পুরাই ফাঁকা হয়ে থাকে। যাত্রী সংখ্যা নেই, মানে আমার রোজগারও নেই। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শুধু সেলিম মিয়া নয় বরং এখন সড়কে থাকা প্রায় সব রিকশা চালক ও নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা একই ধরনের। একেতো কমে গেছে আয়, তার উপর রাস্তায় বের হতে হয় ঝুঁকি নিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু রিকশা চালক বা দিনমজুর নয়, চাঁদপুরসহ সারাদেশে পরিবহন খাতে যারা বাস মিনিবাসের ড্রাইভার, সুপারভাইজার বা হেলপার হিসেবে কাজ করেন তারাও মজুরি পান প্রতিদনের ট্রিপ বা যাতায়তের ওপর।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে আছেন তারাও। আর অটোরিকশা ও সিএনজিতে যারা কাজ করতেন তাদের অবস্থাও নাজুক।

কয়েকটি বাজার ও গ্রামের মহল্লা ঘুরে দেখা যায়, অনেকে দু’মুঠো খাবারের সন্ধানে বের হয়েও কুলাতে পারছে না কোন কিছু।

আবার অনেকে ঝুঁকি নিয়েও আয়ের জন্য ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের খেটে খাওয়া লোকজন। তারা মান সম্মানের ভয়ে কারো কাছে পারছে না হাত পাততে, আবার না খেয়েও থাকতে পারছে না। নিন্মবিত্ত পরিবারগুলো কিছুটা সরকারী কিংবা ব্যক্তি সহায়তা পেলেও সবসময় তো আর পাচ্ছে না তারা।

Facebook Comments

Check Also

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে ঈদের ৩টি জামায়াত অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে ঈদুল ফিতরের প্রথম জামায়াত …

vv