Home / অর্থনীতি / করোনাকালে হাজীগঞ্জে বাড়ছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা
ঢাকায় চাকুরি হারিয়ে শামীম ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামে চলে আসে। ছবিটি হাজীগঞ্জের বিশ্বরোড এলাকা থেকে সোমবার তোলা।

করোনাকালে হাজীগঞ্জে বাড়ছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা

সাইফুল ইসলাম সিফাত : করোনার কারণে সারা দেশে ব্যবসা বাণিজ্যসহ উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পরায় গ্রাম পর্যায়ে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে বিপুল পরিমাণ খেটে খাওয়া মানুষ কাজ না থাকায় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকা লকডাউনের কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে না পারায় দেনাদারী হয়ে শহরের বাসাবাড়ি ছেড়ে দিয়ে স্রোতের মতো গ্রামে চলে আসছে। যার প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলে।

ঢাকা আশুলিয়ার কুরগাঁও এ শ্রমিকের কাজ করা কালাম বেপারী, ফিরোজ, মোকাদ্দেছ, আমিন, ফজর আলীসহ অনেকেই জানান, গত ১৫ দিনে ব্যবধানে কমপক্ষে দুই হাজার মানুষ বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ নিজ গ্রামে চলে এসেছে। প্রতিদিনই শহর হতে সড়ক ও নৌপথ দিয়ে মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামমুখি হচ্ছেন।

এদিকে করোনার কারণে সাড়া দেশের ন্যায় হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, মিল-কারখানায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। যার কারণে মানুষ কর্মহীন ও অর্থহীন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিন মজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মানুষ পরেছে চরম বিপাকে। ধার দেনা হয়ে সংসার চালাতে গিয়ে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।

ভ্যানচালক দুলাল, রাসেল, আলামিন, সিএনজি চালক বাবু, সোহেল, আরমানসহ কয়েক জনের সাথে কথা হলে জানান, করোনার কারণে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় রুজি কমে গেছে।

আগে যেথানে ৫শ থেকে ৭শ টাকা দিনে রুজি হতো বর্তমানে তা ২শ থেকে ৩শ টাকা রুজি করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিয়ে সংসারই চালাবো নাকি সাপ্তাহিক কিস্তি দিব কোন কুল-কিনারা পাই না।

এসব থেকে উত্তোরণের উপায় জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারী বলেন, সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজির জোগান দিচ্ছে। এটা খুবই ভালো। তবে যারা এই লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাদের সবার আগে খাদ্য ও নগদ সহায়তা পৌঁছাতে হবে। এছাড়া কিছু শ্রমিক আছেন যেমন- সিএনজি চালক, রিক্সা চালক, দিনমজুর, ভাসমান হকারসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোক তাদের অনেকে চাইতে পারেন না। তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে খুব শিগগিরই। আর সরকার বিনামূল্যে যে খাদ্য বিতরণ করবে সে সম্পর্কে এখনই করণীয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া যে যে পেশায় কর্মরত তারও পেশার পরিবর্তন ঘটবে। ফলে অপেক্ষমানদের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে সু সম বন্টন করতে হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারী আরও বলেন, এখনো সময় আছে সমন্বয় করে কাজ করার। আমলা নির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে নাগরিক সমাজের মতামত নিয়েও সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুর্নীতিবাজ চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই সামনে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুর সিটি সেন্টারে ফাতেমা ফেব্রিকসের উদ্বোধন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর শহরের সেবা সিটি সেন্টারের নিচতলায় পুরুষ ও মহিলাদের জন্য …

vv