ব্রেকিং নিউজঃ
Home / মতামত / করোনাকালের মানবিক সংকটে একজন  ড. সালেহা কাদের 

করোনাকালের মানবিক সংকটে একজন  ড. সালেহা কাদের 

আলিশা আরিয়ান : বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস এখন মানুষের অভিন্ন শত্রু। এই ভাইরাস গত পাঁচ মাসে বিশ্ববাসী কে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, কেড়ে নিয়েছে লাখো লাখো প্রাণ। চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাণঘাতী ভাইরাস এখন দুনিয়াজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। ধনী-গরীব, রাজা- প্রজা সকলের মাঝে নিরবে ছড়িয়ে পড়ছে এ ভাইরাস। একবিংশ শতাব্দীর এই পৃথিবীতে চিকিৎসাশাস্ত্রের চরম উৎকর্ষতার যুগে, প্রযুক্তির বিপ্লবের লগ্নে, একটি অনুজীব পৃথিবীর সমস্ত মানুষের প্রাণনাশের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে হাজার হাজার প্রাণ। এ ভাইরাসের মরণ-ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি প্রিয় মাতৃভূমি। গ্রামে-গ্রামে, অঞ্চলে-অঞ্চলে পরিবার-পরিজনদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী যাকে বলা হয় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। এই ভাইরাসের মারণঘাতী শক্তি মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের বন্ধন ও ভাতৃত্বের আর মাতৃত্বের জীবনধারণেও চিড় ধরাতে পেরেছে। অর্থাৎ যদি আরেকটু সহজ করে বলি সেটি হচ্ছে ভাইরাস সন্দেহে পরিবার-পরিজনদের মধ্যে আতঙ্ক এবং দূরত্ব প্রতীয়মান হয়েছে।
অনেকেই প্রিয়জনের কবরে দিতে পারে না মমতায় ভরা মাটির শেষ টুকরাটাও। পৃথিবীতে বিদ্যমান সব ধর্মের স্ব-স্ব রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পর সম্মানজনক শেষকৃত্যর বিধান আছে। কিন্তু দুনিয়াতে এ কেমন মৃত্যুর বিধান এলো যে, মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায় না। মানুষ মানুষকে ফেলে চলে যায়। এটা এমন এক মৃত্যু যেখানে প্রিয়জন কাছে আসেনা। মৃতদেহ মেঝেতে পড়ে থাকে। সিঁড়িতে পড়ে থাকে প্রিয়জনের নিথর মরদেহখানি। আপনজন ভয়ে দূরে চলে যায়। কেউ লাশ নিতে আসে না। হাসপাতালে, রাস্তায় লাশ ফেলে চলে যায়। এগিয়ে আসে না নিজ স্বামী, স্ত্রী, পিতা, পুত্র, কন্যা বা কোনো আত্মীয়স্বজন। সুনামগঞ্জে অন্য জেলা থেকে আসা গার্মেন্টসকর্মীর বাড়িতে যাওয়ায় করোনা হয়েছে সন্দেহ করে বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন সন্তানরা। টাঙ্গাইলের সখীপুরে করোনা সন্দেহে পঞ্চাশ বছরের একজন নারীকে জঙ্গলে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে তার স্বামী-সন্তানেরা। পাবনার বেড়া উপজেলার দুর্গম চর চরসাফুল্যা গ্রামে করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধকে (৬৫) ফেলে রেখে যায়। গত ২১ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত সন্দেহে নারায়ণগঞ্জ থেকে এনে মাথার চুল কেটে সাভারে এক বৃদ্ধাকে ফেলে পালিয়েছে তার সন্তানরা।
এই করোনা আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমরা কতটা অসহায় আর কতটা নির্মম। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে আমাদের মাঝে সুপ্ত মানবিক অনুভূতিগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। সামাজিক দূরত্বের নামে আমরা মানসিক মানবিকবোধ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে ফেলেছি। এছাড়াও স্বামী স্ত্রী করোনা সন্দেহে দূরত্ব,এমনকি শেষ যাত্রায় সঙ্গে থাকছে না আপনজনরা। অবিশ্বাসে ভরে গেছে আমাদের চারপাশ। এই ভাইরাসের রাজত্বের কারণে পৃথিবীর অর্থনীতি থমকে গেছে। পৃথিবীর বড় বড় নামজাদা কোলাহলপূর্ণ রাতজাগা শহরগুলো এখন ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। পৃথিবীর রাজধানী নিউইয়র্ক, যেখানে রাতদিন লাখো লাখো মানুষের ভিড়, এখন সেখানে নিয়ন  বাতির পরিবর্তে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা আর স্বজন হারানোর করুণ সুর। আলোহীন আলেয়ার মতো এই তিলোত্তমা শহর ঢাকার নিভে গেছে আলো জলমলে বাতি। ভূতুরে বাতিগুলো জ্বলছে মিটমিট করে। কোলাহল পূর্ণ শহরগুলো লাশের শহর এখন আতঙ্কে রূপ নিয়েছে।
সমাজের নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর জীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ। যেন পেটের ক্ষুধা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। এই মানবিক সংকটে দেশের প্রায় কয়েক কোটি মানুষ খাবারের সংকটের জন্য ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে  বাধ্য হয়েছে। সাহায্য-সহযোগিতার জন্য সামর্থ্যবান বিত্তবানদের কাছে যেতে হচ্ছে। সরকার দেশের প্রায় চার কোটি মানুষকে দফায় দফায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। ৫০ লক্ষ মানুষকে মোবাইলে অ্যাপস এর মাধ্যমে টাকা পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাতদিন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। নিতান্তই আশ্চর্যজনক  বিষয় হচ্ছে,এদেশে বিত্তবানদের চেয়ে মোটামুটি সামর্থ্যবান মানুষদের মানবিকতা ফুটে উঠেছে। যেখানে দেশের বড় বড় শিল্প গ্রুপ থেকে শুরু করে রুই কাতলা হাত গুটিয়ে রেখেছিল সেখানে কেবল মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষদের সাহায্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
আমরা গণমাধ্যমের কল্যাণে দেখেছি, যখন এদেশের ধনকুবের ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রণোদনা ঘরে তুলতে ব্যস্ত ছিলেন ঠিক সেই সময় এদেশের পথে-প্রান্তরে অসংখ্য মানুষ নিরবিচ্ছিন্নভাবে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এই ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার পর মানবিক সম্ভাবনাগুলো উঁকি দিয়েছে দারুণভাবে কারণ কোন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ এমন মানবিক সংকট  মানবসেবা থেকে দূরে থাকতে পারছে না। আমরা যদি কয়েকটি উদাহরণ প্রত্যক্ষ করি তাহলে দেখবো মানুষগুলোর মানবিকতা কতটা প্রশংসনীয়।
নিজের সঞ্চিত সব অর্থ করোনা দুর্গতদের জন্য করোনা তহবিলে দান করেন ভিক্ষুক নাজিম উদ্দীন। আমরা দেখেছি,বহু শিশু তাদের সঞ্চিত মাটির ব্যাংকের অর্থ ডিসিকে জমা দিয়েছেন। যেখানে প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ ও অবুঝ শিশুরা এ ক্রান্তিকালে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, সেখানে এদেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা তথা সুবিধাভোগীরা যাদের রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল খুব বেশি, তারা  বিভিন্ন শিল্প কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে তালবাহানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনিয়ম শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো অনেক বিষয়ে দায়িত্ব-জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
অন্যদিকে এই সংকট মুহূর্তে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে। দেশের  বিভিন্ন জেলায় উপজেলায় ছাত্রলীগ কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন ।এছাড়াও করোনার এ আতঙ্কজনক সময়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা বিভিন্ন লাশের কবর খনন, কাফনের কাপড় কিনে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে।অতীতের মতোই ছাত্রলীগ জনগণের পাশে দেবদূত হিসেবে কাজ করে চলছে।
করোনাকালে প্রশাসন, চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মীরা করোনা মোকাবেলায় প্রথম সারিতে কাজ করেছে।করোনায় মানবিক,ত্যাগী ও নির্ভীক যোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় এ তিন শ্রেণির মানুষকে।। এখন পর্যন্ত প্রতিরোধ করার কোনো অস্ত্র আবিষ্কার না হওয়ার পরও যেকোনো সময় আক্রান্ত হতে পারেন জেনেও তাঁরা মানবিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি। মাসের পর মাস পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও দায়িত্বে অবহেলা করেননি।
আমরা দেখেছি, এদেশের গ্রামে- গ্রামে, উপজেলায় ও জেলায় সামাজিক সংগঠনগুলো কতটা  দায়িত্ব সচেতন হয়ে মানুষকে সাহায্য করেছে। আমরা দেখেছি, এদেশের বহু জনপ্রতিনিধি এখনো কত উন্নত মানসিকতা পোষণ করে। রাজনীতিতে সবাই খারাপ না। সবাই খারাপ হলে রাজনীতি কেউ করতো না। বহু জনপ্রতিনিধি তাদের নিজ  এলাকার মানুষের পাশে রাত দিন থেকেছেন। মানুষের জন্য কাজ করেছেন, এখনো করছেন। এসব মানবিক উদাহরণ অনেক রয়েছে। এই করোনা পরিস্থিতিতে এমন একজন মানুষের কথা বলবো যে মানুষটি করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে অদ্যবধি তার নিজ জন্মস্থানসহ বিভিন্ন জায়গায় মানুষের জন্য বিনীতভাবে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন। মানুষের কল্যাণে ঢেলে দিয়েছেন প্রচুর অর্থ ও সহযোগিতা। সমাজের নানান পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে তুলেছেন শতগুণে।
সন্দ্বীপের কৃতিসন্তান,রাজধানীর চেরী ব্লোসমস ইন্টান্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও চেয়ারম্যান ড. সালেহা কাদের। যাকে বলা যেতে পারে এ যুগের মাদার তেরেসা অথবা ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল। করোনা দিনে যিনি প্রতিক্ষণ যোগাযোগ রেখেছেন সন্দ্বীপ সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তিনি সন্দ্বীপ ফ্রেন্ডস সার্কেল এসোসিয়েশনের মাধ্যমে শতাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহযোগিতা দিয়েছেন। এমন কি ঈদের আনন্দ অক্ষুন্ন রাখতে তিনি ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন নিরন্ন মানুষের ঘরে ঘরে। দেশের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষদের পড়তে হচ্ছে মহাবিপাকে। কারণ গোটা দেশ স্থবির হয়ে পড়ায় তাদের উপার্জনের পথ বলা চলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সুন্দর একটা পৃথিবী গড়তে হলে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার ভালবাসা। শুধুমাত্র ভালবাসা দিয়েই সম্ভব হবে পৃথিবীর বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। এই বিশ্বাস থেকেই মানবতার প্রতীক ড.সালেহা কাদের আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত হয়ে ত্রাণ বিতরণ করে গেছেন। মানবতার এমনই এক দুঃসময়ে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলেও বিবেকের টানে ত্রাতা হয়ে আজ এগিয়ে এসেছেন তিনি। এই মানবতার ফেরিওয়ালা দেশপ্রেমের মহান মন্ত্র বুকে ধারণ করে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গরীব, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে। দেশ মাতৃকার কঠিন সময়ে তিনি মানুষের প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দিয়েছেন। আজ কালো কে কালো, আর সাদা কে সাদা বলার দিন এসেছে। সত্য আজ সমাগত। এ দুর্যোগে এমনও অনেক ধনকুবের আছেন,যারা করোনায় শুধু নিজেদের ভালো থাকাকে প্রাধান্য দিয়ে স্বার্থের পাহাড়ে বসবাস করছেন অথচ এই মহিয়সী নারী নিজেকে নিয়ে পড়ে থাকেন নি।তাঁর একটাই ব্রত সবাইকে নিয়ে ভালো থাকা। করোনামুক্ত বাংলাদেশ ও নতুন সোনালী প্রভাতের প্রতীক্ষায় মানবিক সেবা দিচ্ছেন এই প্রত্যয়দীপ্ত নারী।
সন্দ্বীপের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী বেশ ক’জন পরিবারগুলোকে ধারাবাহিক সহযোগিতার ন্যায় এই দুর্দিনে পাশে থেকেছেন। এছাড়া নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর হৃদয় উৎসারিত ভালোবাসামূলক উপহার সামগ্রীর মাধ্যমে সহযোগিতা পেয়েছে শতশত মানুষ। ঢাকা বৃহত্তর মিরপুর সন্দ্বীপের সদস্যদের মাঝে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন কারো যদি টাকা কিংবা খাবার লাগে তিনি সরবরাহ করবেন। তিনি তাই করেছেন যেটা এই ক্রান্তিলগ্নে একজন মানবিক দরদী মানবীর করা উচিত। বিপদের দিনে তিনি হয়ে উঠেছেন দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের  ত্রাণকর্তা। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ এর বিভিন্ন ইউনিয়নে যারা সহযোগীতা চেয়ে যোগাযোগ করেছেন, তিনি কাউকে নিরাশ করেননি। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তিনি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, যা এক মানবিকতার পরিচয় বহন করে। ঢাকার মিরপুরে নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে তিনি খাদ্য সামগ্রী ও ঈদের সেমাইসহ আনুষাঙ্গিক খাবার দাবারের ব্যবস্থা করেছেন। দেশের দুর্দিনে মানুষ হয়ে মানুষের পাশে থেকে এরকম অসংখ্য নজির সৃষ্টি করেছেন ড.সালেহা কাদের। সন্দ্বীপে শত শত ধনাঢ্য ব্যক্তি আছেন।কিন্তু করোনা কালে মানুষের জন্য পবিত্র হৃদয়ের ভালোবাসা থেকে একজন নারী হয়ে তিনি যেভাবে নিরন্ন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেটা অভাবনীয়।
একজন শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, সুস্থ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি সদা প্রস্তুত আছেন মানুষের কল্যাণে।তাঁর জন্য বহু মানুষ বিপদে পেয়েছেন খাদ্য এবং ছায়া। শুধু করোনাকালে নয়,তিনি সর্বসাকুল্যে একজন মানবপ্রেমী ব্যক্তি। তাঁর  মানবসেবামূলক কর্মকান্ড যেন ভুপেন হাজারিকার “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”গানের বাস্তব প্রতিফলন। যেকোনো সংকটে,যেকোনো সমস্যায় তিনি মানুষের পাশে থাকেন। অনেকের বিত্ত আছে কিন্তু চিত্ত নেই। বিত্ত-বৈভব ঐশ্বর্য প্রতিপত্তি যাদের আছে এই মানবিক সংকট তাদের চিত্তের মানবিক মনুষ্যত্ববোধ উদিত হয়নি। মানুষের কল্যানে তারা অবদান রাখতে পারেনি তাদের সম্পদের একটু সহযোগিতা দিয়ে। কিন্তু সমাজে  এমন অনেক মানুষ আছেন যারা তাদের সামান্য সাধ্যের ভিতরে মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেন, সালেহা কাদের সেই মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিত্ত-বৈভবের চেয়ে চিত্তের শান্তি অনেক বেশি। এই শান্তির খুঁজেই মানবপ্রেমী অন্যদের চেয়ে বহুদূর এগিয়ে গেছেন। শুধু এই করোনাকালে নয়,মানুষের যেকোনো বিপদাপন্ন সময়ে,তিনি দেবীরূপে আবির্ভূত হন।
একটি মহতী মনুষ্যত্ববোধের জায়গা থেকে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষকে ভালোবাসা হলো শান্তিপূর্ণ হাতিয়ার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই করোনার যবনিকায় মানুষ তাদের আপনজনকে বুকে জড়িয়ে নিবে পরম ভালোবাসায়। ধর্ম -বর্ণ নির্বিশেষে সবার মাঝে ভাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি হবে। পৃথিবী ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হবে। সমস্ত হিংসা-ক্লেশ ব্যতিরেকে পৃথিবী মানুষের বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। তিনি স্বপ্ন দেখেন মানুষে মানুষে অসমতা একদিন মুছে যাবে। করোনা পরাজিত হবে মানুষের ভালোবাসায়। পৃথিবীর মানুষ হয়ে উঠবে আরো বেশি শক্তিশালী। একটি নিরাপদ ও সুস্থ-সবল, সবুজ পৃথিবী নতুন দিনের অপেক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার-পরিজনকে হারানো মানুষজন তাদের শোক ভুলে আবার প্রাণচঞ্চল হবেন। পৃথিবীর সুস্থ হবে তিনি স্বপ্ন দেখেন।
হিংসা আর স্বার্থপরতার করালগ্রাসে পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ আজ মানবিকতাশূন্য হয়ে পড়েছে। ঐশ্বর্যের পাহাড় গড়তে গিয়ে মানুষ পিছিয়ে পড়া আপনজনের কথা ভুলে যায়। কিন্তু মানুষে মানুষে এতো হিংসা-বিদ্বেষের মধ্যে ড.সালেহা কাদের মানুষের দুর্দিনে কান্ডারীর ভূমিকা পালন করেছেন। এভাবে বৈষম্য ভুলে গিয়ে মানবিক কাজে নিবেদিতা হিসেবে তিনি যে অমোঘ অস্ত্র ভালোবাসা ছড়িয়ে দিয়েছেন তার মাধ্যমেই মানবমুক্তি সম্ভব। চারপাশে সব মিথ্যা, প্রতারনা আর লৌকিকতার মাঝে সত্যের জয় হবেই। পৃথিবীর হৃদমাঝারে ভালোবাসা নামক নমনীয় অনূভুতি ছড়িয়ে পড়বে। শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠবে আমাদের চারপাশ।
Facebook Comments

Check Also

স্মৃতিতে শিক্ষক কবির মজুমদার

রোটারিয়ান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় :  যখন পড়বেনা মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে আমি বাইবোনা,আমি …

vv