ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / কচুয়ায় বখাটেদের উৎপীড়ণে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় এজহার দায়ের
নিহত রুপা রানী দাস।

কচুয়ায় বখাটেদের উৎপীড়ণে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় এজহার দায়ের

কচুয়া অফিস : কচুয়ায় বখাটেদের উৎপীড়ণের জ্বালা যন্ত্রনা সইতে না পেরে গত রবিবার বিকেলে গলায় ফাঁস দিয়ে রুপা রানী দাস (১৭) নামের এক স্কুল ছাত্রী পরপারে পাড়ি দিয়েছে।

এ ঘটনায় রুপা রানী দাসের বাবা রতন চন্দ্র দাস কচুয়া থানায় নিজে বাদী হয়ে ৫জনকে আসামী করে এজহার দায়ের করেন। আসামীরা হলেন- পলাশপুর গ্রামের অজিত দেবনাথের ছেলে আশিষ দেবনাথ(২১), কড়ইয়া পাটিয়াল পাড়ার দীজেন্দ্র পাটিকরের ছেলে সজীব পাটিকর(২১), কোয়া মিস্ত্রি বাড়ির জুলহাস মিয়ার ছেলে মোঃ আনিছ(২০), কড়ইয়া পাটিয়াল পাড়ার যুবরাজ সরকারের ছেলে পংকজ সরকার(২০), চান্দিনা থানার নবাবপুরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে শাকিল আহম্মেদ(২২) সহ ,অজ্ঞাত নামা আরো ২/৩জন।

এজহার সুত্রে জানা যায়, রুপা রানী গত ১২ জানুয়ারী বিকেল সাড়ে ৩টায় স্কুল থেকে প্রাইভেট পড়া শেষ করে বাড়িতে আসে। এর মধ্যে রুপা রানীর পরিবারের লোকজন পাশের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়।

বিকেল ৪টার দিকে রুপা রানীর মা দীপা রানী দাস(৩৮) দাওয়াত খেয়ে বাড়িতে আসার পথে বাড়ির সামনে আসলে উপরোক্ত আসামীরা রুপার রানীর বিষয়ে বিভিন্ন কটাক্ষ করে এবং উসকানী মূলক কথা বার্তা বলে।এ কটাক্ষ ও উসকানী মূলক কথার জ্বালা সইতে না পেরে রুপা রানী দাস সকলের অলক্ষে ঘরে প্রবেশ করে গলায় ফাঁস আত্মহত্যার পথ বেচে নেয়।

এজহার সুত্রে আরো জানা যায়, রুপা রানী স্কুলে আসা যাওয়ার সময় কিশোর গ্যাং নেতা আশিষ সহ আসামীরা রাস্তা ঘাটে প্রেমের প্রস্তাব ও বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিত। এসব ঘটনা এজহারে বর্ণিত আসামীদের পরিবারকে অবগত করানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয় নি। বরং তাদের পরিবারের কাছে এই বিচার দেওয়ায় আশিষ দেবনাথ ও তাহ সহকর্মীরা রুপার বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করে ক্ষতি করা এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলানোর চেষ্টায় লিপ্ত হয়।

তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ১২ জানুয়ারী রুপা প্রাইভেট থেকে আসার সময় তারা রুপার পিছু নিয়ে বাড়িতে এসে ঘরে প্রবেশ করার জন্য দরজা ধাক্কা ধাক্কি করে। আশিষ ও তার সহকর্মীরা দরজা খুলতে না পেরে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাদের কাছে থাকা মেয়ের ছবি এলাকার লোকজন সহ ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। এতে করে রুপা তাদের অপমান সহ্য করতে না পেরে মনের ক্ষোভে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

রুপার পরিবারের সদস্যরা আরো দাবী করে- এই কিশোর গ্যাং ও তাদের গড ফাদাররা এতই ভয়ংকর ছিল যে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। প্রতিনিয়ত স্কুল কলেজের ছাত্রীরা আসা যাওয়া পথে ইভটিজিং এর শিকার হতে হত।

এলাকাবাসী ও রুপার পরিবারের সদস্যরা রুপার আত্মহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করছে।

Facebook Comments

Check Also

রামগঞ্জে আজহারীর মাহফিলে ধর্মান্তরিত সেই ১১ জন আটক

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর হাফেজ আয়াত উল্যার বাড়ি থেকে মিজানুর রহমান …

vv