ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / কচুয়ায় পাট সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষানীরা

কচুয়ায় পাট সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষানীরা

মোঃ রাছেল, কচুয়া : দেশের প্রধান অর্থকারী ফসল সোঁনালী আঁশ হিসাবে খ্যাত ছিলো এ পরিবেশ বান্ধব পাটের চাষ। কৃষকরা এ পাট চাষ করে একসময় দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক বিদেশী অর্থ উপার্জন করতো। এজন্যে বাংলাদেশে পাট চাষের প্রতি কৃষকদের অনেক আগ্রহ ছিলো। কয়েক বছর ধরে এসব পাটের একমন পাট ১৭শ থেকে ১৮শ টাকা বিক্রি হয়ছে বলে কৃষকরা জানায়। তবুও এটি আজো বাংলাদেশের সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত। আর এই সোনালী আঁশ সংগ্রহ করতে পেরে কৃষকদের মুখেও হাসি ফুটে উঠছে।

কচুয়ায় উপজেলার পাট সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষানীরা। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে গ্রাম অঞ্চলে এ পাট সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা। এসব কাঁচা পাট দীর্ঘদিন পানিতে ভিজিয়ে রেখে তা পঁচে যাওয়ার পর গাছ থেকে সোনালী আঁশ পাট সংগ্রহ করেন। তারপর সেগুলো পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়।

কচুয়ায় উপজেলার ১২ ইউনিয়র ও ১টি পৌরসভায় ২ হাজার কৃষককে এ বছর পাট অধিদপ্তর থেকে প্রনোদনা দেয়া হয়। গত এক’দু বছর ধরে পাটের মূল্য কমে যাওয়ায় পাট চাষের প্রতি অনেকটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন কৃষকরা। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাটের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। গত বছরে ১মন পাটের মূল্য ১৭শ থেকে ১৮শ টাকা হলেও এ বছর ১ মণ পাটের দাম ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে পাট চাষী জানান। । মূল্য বৃদ্ধির কারনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা পাট চাষিরা পূর্বের ন্যায় পাট চাষে মনোযোগী হয়ে উঠছে। এতে বাংলাদেশের ঐতিহ্য বাহী অর্থকরী ফসল পাট চাষ আবারও পুনরুজ্জীবিত হয়ে পাট জাত দ্রব্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে বলে সচেতন শ্রেণী আশা প্রকাশ করছেন।

উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে দেখা যায়, নারী-পুরুষ মিলে রাস্তার পাশে বসে এবং বাড়ির আঙ্গিনায় বসে পঁচা গাছ থেকে পাটের আশ সংগ্রহ ব্যস্ত রয়েছে। ডুমুরিয়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, আমি দুই জাতের পাট গাছ চাষ করেছি। একটি হচ্ছে বগি পাট, অন্যটি সুতি পাট। এ দুই জাতের পাটই বেশি চাষ হয়ে থাকে।

কচুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, উপজেলার দুই হাজার কৃষককে পাট অধিদপ্তর থেকে প্রনোদনা দেয়া হয়েছে। কৃষকদের সপ্তাব্যাপী প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। গত বছরের চেয়ে এ বছর মণ প্রতি পাটের দাম ৩ হাজার ৫শ টাকা পাচ্ছেন কৃষকরা। দাম আরো বেড়ে ৫ হাজার টাকা হতে পারে বলেও তিনি জানান। এমন দাম পেলে আগামিতে পাট চাষে আরও আগ্রহী হবেন কৃষকরা।

Facebook Comments

Check Also

মৃত্যুর আগে সেলিম ফিরতে চান চাঁদপুরের আপনজনদের কাছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : ৪০ বছর আগে যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সেলিম মিয়া, তখন সবেমাত্র ম্যাট্রিক …

Shares
vv