ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / কচুয়ায় আলুর বাম্পার ফলন, প্রকৃত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা
মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখে কৃষকরা জমি থেকে আলু সংগ্রহে ব্যস্ত

কচুয়ায় আলুর বাম্পার ফলন, প্রকৃত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

মো: রাছেল, কচুয়া : বর্ষিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আলুর মূল্য ৫০-৫৫ টাকা কেজি হওয়ায় কৃষকরা আলু উৎপাদন ঝুঁকে নিয়েছে। এখন কৃষকরা হতাশ। কচুয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও প্রকৃত দাম পাওয়া নিয়ে কৃষকরা শঙ্কিত, তাই অনেক কৃষকই জমি থেকে আলু তুলে সরাসরি হিমাগারে পাঠাচ্ছেন। দাম যখন বাড়বে, তখন বিক্রি করবেন বলে জানালেন বেশিরভাগ কৃষক।

উপজেলা ও গ্রামের হাট-বাজারে এখন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৪/১৫ টাকা করে। ফসলের মাঠ থেকে প্রতি কেজি আলু ১২/১৩ টাকায় কিনতে চায় এবং অনেক কৃষক বিক্রিও করছেন। সবারই এক কথা- আলুর দাম নেই, দাম কম, তাই আলু চাষিরা হতাশ, তাদের মুখে হাসি নেই।

কচুয়ায় উপজেলায় গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আলুর আকাশ চুম্বি দাম দেখে কৃষকরা আলু চাষে লাভবান হবে বলে আশাবাদী হয়ে পূর্বের তুলনায় এ বছর বেশি পরিমানে আলু চাষ করেছে। গত অর্থ বছরে আলুর চাষ হয়েছে ২০৬০ হেক্টর জমি। চলতি বছরে চাষ হয়েছে ২৫৩০ হেক্টর।

উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের আলু চাষী মো: মনির হোসেন জানান, গত বছর দুই একর বিশ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করি। ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর ৬ একর জমিতে আলুর চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাচ্ছি। এ পর্যন্ত অনেকটাই রোগমুক্ত অবস্থায় রয়েছে। আলু তোলা পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টি না হলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে।

রহিমানগর গ্রামের আব্দুল গণি ও মো: এনায়েত জানান, প্রতি ৬শতক জমিতে আলু চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। ৬ শতক জমিতে ১২/১৩ মন আলু পাচ্ছি। বর্তমানে আলু ১৪/১৫ টাকা পাইকারী মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদনের সাথে বাজার মূল্য সামজস্য না থাকায় আমরা কৃষকরা হতাশা গ্রস্ত।

বক্সগঞ্জ গ্রামের আলু চাষী গোলাম মোস্তাফা জানান, এ বছর কচুয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু তোলা শুরু হলেও কোন কোন জমির আলু পুষ্ট হতে আরো ৯/১১ দিন সময় লেগে যাবে। আকাশে মেঘ দেখলেই আমরা আৎকে উঠি। ২০১৮ সালের ৯ মার্চ আকস্মিকভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় হাজার হাজার মন আলু বিনষ্ট হওয়ায় আমরা আলু চাষীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হই।

কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোফায়েল হোসেন বলেন, “অনুকূল আবহাওয়া, কম শীত, শৈত্যপ্রবাহ না থাকা, কোন পোকার আক্রমণ বা রোগ বালাই না থাকা, বৃষ্টি না থাকায় এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উঠান বৈঠক করে চাষীদের পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ করায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

তিনি আরো জানান- এ বছর কচুয়ায় আলু চাষে কৃষকদের বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেলে চাষকৃত ২ হাজার ৫শ ৩০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৬০ হাজার মেট্টিকটন আলু উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।

কৃষকদের দাবী সরকার ন্যয্য মূল্যে আলু ক্রয় করলে আমরা কৃষকরা কৃষি কাজে আরো আগ্রহী হয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্বি করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল অবদান রাখবে।

Facebook Comments

Check Also

মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি’র ঈদ শুভেচ্ছা

সাইফুল ইসলাম সিফাত : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকাসহ চাঁদপুরবাসিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন …

Shares
vv