ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

সাইফুল ইসলাম সিফাত : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অপশক্তি দেশকে অস্থীতিশীর করতে চক্রান্ত করছে। ঐক্যবদ্ধ ভাবে তাদেরকে রুখে দিতে হবে। তিনি বলেন, অশুভ শক্তির যে মানুষগুলো তারা খুব বেশি নয় কিন্তু তারা সংঘবদ্ধ। আমরা সংঘবদ্ধ নই। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে রুখে দিতে হবে। এদেশ সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির দেশ।
এদেশে আমরা সকল ধর্মের মানুষ  একসাথে মিলেমিশে থাকব। আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ ভালোবাসায় মিশ্রিত হয়ে হাসিমুখে বসবাস করব।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গত ১৩ অক্টোবর মন্দিরে হামলা ও মৃত্যুর ঘটনায় এক আন্ত: ধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করে প্রশাসন। ২৯ অক্টোবর শুক্রবার উপজেলা মিলনায়তন হল রুমে ধর্মীয় সংলাপে যোগদেন শিক্ষা মন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক বিমান ও পর্যটক মন্ত্রীসহ কয়েকজন সাংসদ।
এ সময় প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি আরো বলেন, ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম, এ ধর্ম এমন কাউকে বলা হয়নি বাড়াবাড়ি করতে। কিন্তু আমাদের দেশে যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে এরা কারা, তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। হাদিসে বলা আছে, কোন ধর্মের লোকদের উপর কেউ হামলা, ভাংচুর দূরের কথা নিরস্তদের আঘাতও করতে পারবে না। সেখানে যারা ধর্মের নামে এসব করছে এরাই পাকিস্তানের দোষর। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু চেয়েছে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীন ভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। সেই লক্ষ্যে পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা করে দেশকে ছিনিয়ে এনেছেন। কিন্তু সেই কুলাঙ্গাররা সেই সময় ছিল আজও আছে।
ইসলামে যা যা নেই তা বিএনপি জামায়াত প্রয়োগ করে আসছে। মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অপশক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চক্রান্ত করছে। ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের রুখে দিতে হবে। কারন অশুভ শক্তির মানুষগুলো সংখ্যায় খুব বেশি নয়, কিন্তু তারা সংঘবদ্ধ। আমরা সংঘবদ্ধ নই। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের রুখে দিতে হবে। এ দেশ অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে আমরা সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে থাকব এটাই হোক আজকের অঙ্গীকার।
মন্ত্রী বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়, ধর্মনিরপেক্ষ মানে যার যার ধর্ম ও উৎসব সে স্বাধীনভাবে পালন করবে। এখানে কেউ কাউকে ধর্ম প্রচার, উৎসব কিংবা ধর্ম পালনে বাধাগ্রস্থ করবে না। এসব বিষয়গুলো আমাদের সবার সংবিধানেরও নিশ্চয়তা দেয়। তারা আমাদের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করবার অপচেষ্টার অংশ বিশেষ। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অপশক্তি আজ সংঘবদ্ধ। আমাদেরকেও সংঘবদ্ধ হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি গোষ্ঠী মরিয়া হয়ে উঠেছে। যে কারনে তারা ধর্মকে ব্যবহার করে সু-কৌশলে অল্পবয়সের ছেলেদের লেলিয়ে দেশে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের এ প্রচেষ্টা কোনভাবে সফল হবে না।
আন্ত: ধর্মীয় সংলাপে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তারের সভাপতিত্বে, আরো বক্তব্যে রাখেন, সংসদ সদস্য ও সাবেক বিমান পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহাজান কামাল, সংসদ সদস্য শ্রী মনোরঞ্জন শীল গোপাল, সংসদ সদস্য রুবিনা আক্তার মিরা, অতিরিক্ত সচিব মো. মমিন হাসান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন ভৃঁইয়া, সাধারন সম্পাদক আবু নঈম দুলাল, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মো. মাঈনুদ্দিন ও পৌর মেয়র মাহবুব-উল আলম লিপন প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপকমিটির সমন্বয়ক আখলাকুর রহমান মাইনু, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, আমেনা নুর ফাউন্ডেশন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আহম্মদ আল জামান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিবাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি, অতিরিক্ত সচিব মো.মমিন হাসান, একে এম শাহাজান কামাল এমপি, রুবিনা আক্তার মিরা এমপি।
উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারি, পাওয়ার সেলের ডিজি মোহাম্মদ হোসেন, চাঁদপুর পৌর সভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, আমেনা নুর ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ আহমদ জামান, হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মো. মাঈনুদ্দিন, পরিচালনা করেন ত্রান ও সমাজ কল্যাণ উপকমিটির সমন্বয়ক আখলাকুর রহমান।
উপজেলা প্রসাশনের আয়োজনে আন্ত: ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার  ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামীলীগে ত্রান ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক বাবু সুজিত রায নন্দী।
অনুষ্ঠানে ৯টি ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরকে ৫০ হাজার টাকা করে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১০টি মন্দিরকে ২৫ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১ লাখ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিহত বাবুল ও মানিক সাহাকে মোট ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
মন্ত্রীদ্বয় পরে হাজীগঞ্জ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ মন্দির পরিদর্শন করেন।
Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তিতে মানিক সমর্থকদের হামলায় জামাল সমর্থকের ২ জন আহত

নিজস্ব প্রতিনিধি : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী …

Shares
vv