ব্রেকিং নিউজঃ
Home / দেশজুড়ে / এক বছরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী

এক বছরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল বুধবার। আগে সরকার কর্তৃক মনোনীত হতেন জেলা পরিষদের শীর্ষকর্তা। এর পরিবর্তে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান পরিষদ জনসেবা, জনকল্যাণ ও উন্নয়নে বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বাধিক জনমুখী হয়েছে। এর মধ্যে জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রথম চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন।

তিনি এতটাই জনমুখী ও জনবান্ধব যে কারো কারো কাছে তা ঈর্ষার বিষয়। বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী গত একবছর ধরে নিয়মিত জেলা পরিষদে অবস্থান করছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা পরিষদে টানা অবস্থান করেন তিনি।

তিনি যতক্ষণ অফিসে থাকেন তার কক্ষের দরজা সর্বদা সর্বস্তরের জনগণের জন্য খোলা থাকে। এমনকি প্রচন্ড গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র চালু অবস্থায়ও তার কক্ষের দরজা খোলা থাকে। যে কেউ যখন-তখন তার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন। শর্ত একটাই! জুতা বাইরে রাখা যাবে না, জুতাসহ ভিতরে যেতে হবে। ওচমান গনি পাটওয়ারীর কক্ষে গেলে সবার আগে চা-বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। ধনি-গরীব সবার জন্য একই আয়োজন। আগে আপ্যায়ন তারপর কথা। দুপুর হলে ডাল-ভাত ভাগাভাগি করে খান কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত লোকজনের সাথে। লোক কম-বেশি যা’ই হোক আগ্রহ, মনোযোগ ও ধৈর্য্য সহকারে মানুষের চাহিদা, সমস্যা-সম্ভাবনার কথা শুনেন তিনি।

এরপর করণীয় বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জেলা পরিষদের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অন্য অফিস বা কর্মকর্তার বিষয় হলে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করেন। ব্যক্তিগত আর্থিক সমস্যা সংক্রান্ত বিষয় হলে নিজের পকেট থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। নিজের পকেট খালি থাকলে অন্যের কাছ থেকে ধার নিয়েও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করেন। আর কোনোভাবে উপকার করতে না পারলেও একটু শান্তনা, সহমর্মিতা বা সমবেদনা জানান।

জেলা পরিষদে আসা লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, আগে জেলা পরিষদে আসলে অফিস প্রধানের সাথে দেখা করা কিংবা কথা বলা ছিল ভাগ্যের বিষয়। সবার সেই ভাগ্য হতো না। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করার মতো সহজ বিষয় আর হতে পারে না। চেয়ারম্যান অফিসে থাকলেই হলো। যে কেউ যে কোনো সময় তার সাথে দেখা করতে পারেন। কথা বলতে পারেন। সমস্যার সমাধান পান, পরামর্শ পান কিংবা নিদেনপক্ষে শান্তনা পান। এমন জনপ্রতিনিধি সমসাময়িক কালে আর নেই বলেও অনেকের মন্তব্য।

এছাড়া যে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হলেও তিনি সাদরে রাজী হয়ে যান। একই সময়ে একাধিক আমন্ত্রণ পেলে সময় পরিবর্তন করেও তাতে সাড়া দেন। শিক্ষা, ধর্ম, ক্রীড়া, শিল্প-সংস্কৃতি, সাহিত্য, সমাজসেবা প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার সরব উপস্থিতি বিদ্যমান। শিশুদের খুব ভালোবেসে ইতোমধ্যে তিনি শিশুবান্ধব জনপ্রতিনিধি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জেলা পরিষদে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে পুরো মাসে যে পরিমাণ মানুষ জেলা পরিষদে আসতেন এখন কোনো  কোনো দিনে তার চেয়ে বেশি মানুষ দেখা যায়। বিষয়টি আমাদের কাছেও ভালো লাগে। সরকার জনসেবা ও উন্নয়ন সহজতর করার লক্ষ্যেই জেলা পরিষদকে আরো কার্যকর ও গতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

গতকাল বুধবার দিনভর জেলা পরিষদে আশা শতাধিক লোকের সাথে আলাপকালে তারা প্রায় অভিন্ন সুরে বলেন, চাঁদপুর জেলায় ওচমান পাটওয়ারীর মতো জনপ্রতিনিধি আর নেই। আর কোনো জনপ্রতিনিধিকে এভাবে যখন-তখন হাতের নাগালে পাওয়া যায় না। শুধু তাই নয়, মাঝে মাঝে তিনি নিজেই মানুষের কাছে ছুটে যান তাদের সমস্যা জানার জন্য। চেষ্টা করেন সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যেও মানুষের সেবা ও কল্যাণ করতে। সময় পেলেই তিনি ছুটে যান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্রে।

এর মধ্যে চাঁদপুর সরকারি শিশু পরিবার এবং চাঁদপুর সরকারি মূক ও বধির বিদ্যালয়ে বার বার ছুটে যেয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সারা জেলায় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী। শিশু পরিবারের মেয়েরা তাকে বাবা বলেই সম্বোধন করে। তিনিও তাদের মেয়ের স্বীকৃতি দিয়েছেন।

চাঁদপুরের সুশীল সমাজের একজন সচেতন ব্যক্তি বলেন, আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী এখন সর্বস্তরের মানুষের বিশ্বাস ও আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেন। জনপ্রতিনিধি এমন’ই হওয়া উচিৎ। কিন্তু দুঃখের বিষয় অরাজনৈতিক অনেক লোক এখন জনপ্রতিনিধি। তাদের ব্যবসায়িক কিংবা পেশাগত ব্যস্ততার কারণে জনগণ প্রয়োজনে সর্বদা তাদের সাক্ষাৎ পান না। এমনকি কোনো কোনো জনপ্রতিনিধি তো এলাকায়’ই থাকেন না। ঢাকা কিংবা অন্যত্র পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করেন। তারা মাঝে মাঝে এলাকায় আসেন। তাদের দেখা পাওয়া’ই অনেক কঠিন। এমন ভুক্তভোগী মানুষ ওচমান পাটওয়ারীর মতো জনপ্রতিনিধি পেয়ে মহাখুশি।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী বলেন, আমি একা থাকলে খুব খারাপ লাগে। মানুষের মাঝে থাকতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে মানুষের উপকারে আসতে পারলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। আমি নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, নির্বাচিত হতে পারলে মানুষের উপকারে কতটুকু আসতে পারবো জানি না তবে মানুষের পাশে থাকবো। সেই চেষ্টাই করছি। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের শপথ অনুষ্ঠানের পর বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে নজর দিতে। নেত্রীর কথা মতো জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনগণ আমার প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে তা ধরে রাখা আমার একমাত্র ব্রত।

আমি ভাগ্যবান আমি আমার স্বপ্নের একটি পরিষদ পেয়েছি। আমরা সবাই মিলে জেলা পরিষদের মাধ্যমে জনসেবা ও জনকল্যাণ করার চেষ্টা করছি। আমি জেলাবাসীর দোয়া চাই।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে ৫ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষণে পুলিশের সহায়তায় মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে পঞ্চম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের সহায়তায় মামলা দায়ের করা …

vv