ব্রেকিং নিউজঃ
Home / দেশজুড়ে / একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু

একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু

রাজু আহমেদ রমজান : কাকডাকা ভােরে ছুটে চলতেন কয়লা-চুনাপাথর পরিবহন কাজে। জীবনযুদ্ধে অপরাজিতা এই মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে উচ্চশিক্ষিত হয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে অসহায়ত্ব গােচাবে তাঁর। এমন বিভোর রঙ্গিন স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করিয়েছেন ছেলেকে।
স্থানীয় বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৬ সালে প্রত্যাশিত ফলাফলে এইচএসসি পাস করে ছেলে পারভেজ হাসান। বিএ (ডিগ্রি) ভর্তি করানোর মূহুর্তে মায়ের শরীর কর্মক্ষমপ্রায়। ততক্ষণে একটি চাকরীর আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে পারভেজ। কিন্তু বিধি বাম। অসহায় মায়ের ঘুমিয়ে থাকা ভাগ্যের ভোর হয়নি আর। অবশষে সংসারের হাল ধরতে শ্রমবিক্রি শুরু হয় পারভেজ’র। বেদনার নীলরঙে ভেসে যায় দুখিনী মায়ের রঙ্গিন স্বপ্ন। একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে পরিশেষে।
বলছি বিধবা নাজমা বেগমের (৪৫) জীবন কাহিনী। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রউফের মেয়ে তিনি।
দুখিনী এই মায়ের সঙ্গে শুক্রবার সকালে (১৯ মার্চ) কথা হয় এ প্রতিবেদকের। দু’চােখের পানিতে একাকার এই মা সাবলীল ভাষায় জানান তাঁর  অসহায়ত্বের কথা।
নাজমা বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর চার ছেলেকে নিয়ে কূলহারা হয়ে পড়েন তিনি।  দিনমজুর বাবার কুঁড়েঘরে হয় মাথা গােঁজার ঠাঁই। সন্তানদের মুখে আহার তুলে দিতে দিশেহারা এই মা কয়লা কুড়ানো ও পাথর ভাঙার কাজে নেমে পড়েন তখন। শ্রমবিক্রির টাকায় বড় ছেলের লেখাপড়া চলে। প্রাথমিকের গন্ডি পেরিযে এইচএসসি পাশের পর আশা ছিল একটি সরকারি-বেসরকারি চাকরি করে সংসারের দুঃখ ঘুচাবে সে। আমার ভাগ্যের রজনী পোহায়নি। আজ আমার ছেলে দিনমজুর। সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্টানের মালিকদের কাছে ছেলের একটি কর্মসংস্হানের সুযােগ চেয়েছেন দুখিনী এই মা।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম ও হাজেরা বেগম বলেন, অত্যন্ত নম্রভদ্র ও সত্যবাদি মানুষ পারভেজ। তার একটি কর্মসংস্হানের ব্যাপারে সরকারসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক দৃষ্টি কামনা করছেন এই জনপ্রতিনিধিরা।
Facebook Comments

Check Also

কচুয়া সড়কে বোনের নাতির ঈদের কাপড় দিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন দাদি

মোঃ রাছেল, কচুয়া : বোনের নাতির জন্যে ঈদ উপহার দিয়ে বাড়ি অন্য বোনের বাড়িতে যেতে রওনা …

Shares
vv