ব্রেকিং নিউজঃ
Home / মতামত / একজন হ্যামিলনের বংশীবাদককে হারালাম

একজন হ্যামিলনের বংশীবাদককে হারালাম

শহরটার নাম চাঁদপুর। সবাই চেনে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর নামে ৷ ছোট্ট, সাজানো, সুন্দর শহর চাঁদপুর ৷ সেই শহরের মানুষের খুব দুঃখ ৷ সেখানে যেন সমস্যা লেগেই থাকে ৷ এখানে সেখানে নাগরিকদের নানান সমস্যা ৷ কি যে যাচ্ছেতাই অবস্থা ! শহরের প্রধান পড়েছেন ভারি বিপদে ৷ কর্তাদের ঘুম নেই ৷ কি করবেন তাঁরা। ঠিক সেই মুহুর্তেই হাজির হলেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা হয়ে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।

এডিসি হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জনস্বার্থ সংরক্ষণ, জনসেবা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সেবা গ্রহণে জনভোগান্তি ও হয়রানি বন্ধ করা, সরকারি কর্মকাণ্ডে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো ও নিশ্চিত করা, ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে ডিজিটাইলেজেশন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ, সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সেবার মান উন্নতকরণ নিশ্চিত করা, খাদ্যে ভেজাল, নকল ওষুধ, যাত্রী হয়রানি, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। আর এ জন্যই তিনি যোগদানের স্বল্প সময়ের মাঝেই তিনি সাধারন মানুষের প্রিয় আস্থার প্রতীক হিসাবে পরিচিতি অর্জন করে নিয়েছেন।

তার দক্ষতায় ও মেধাবী পরিচালনায় করোনার প্রথম ধাপে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

জেলার সফল ও সুযোগ্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান শুধুমাত্র একজন প্রশাসকই নন, মানবতার জন্য দরদী বন্ধু। তিনি যুব ও তরুণ সমাজের কাছে একজন জনপ্রিয় ও অনুকরনীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের দ্বারা তিনি প্রতিনিয়ত জেলাবাসীর বড় বড় সমস্যার সমাধান দিয়েছেন। একজন সাধারন মানুষকে করে নিয়েছেন বন্ধু। তিনি এমন একজন এডিসি যার কাছে সব শ্রেনীর মানুষ সরাসরি সাক্ষাৎ এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন খুব সহজে । তিনি চাঁদপুরের বিভিন্ন অঙ্গনের মানোন্নয়নে যে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন তা ভুলা যাবেনা। তিনি তার কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে চাঁদপুর বাসীর মনে স্থান করে নিয়েছেন। চাঁদপুরের সর্বস্তরের মানুষ তাকে আজীবন স্মরণ রাখবেন।

জনবান্ধব এই এডিসির হঠাৎ বিদায়ের ঘন্টা বেজে উঠায় হতাশ হয়েছেন চাঁদপুরের সর্বস্তরের জনগণ। বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এডিসির প্রশংসা করেছেন উপস্থিত সকলেই। সফলভাবে দায়িত্ব পালন করায় অভিন্দন ও তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের জন্যও শুভকামনা জানান সদ্য বিদায়ী এডিসি আবদুল্লাহ আল মাহমুদের জন্য৷ এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের ব্যক্তি বর্গরাও তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পরিশেষে ক্ষুধা-দারিদ্র, নিরক্ষরতা ও সন্ত্রাসমুক্ত, শোষণহীন সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়দীপ্ত দৃঢ় অঙ্গিকারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান আরো এগিয়ে যাবেন এমনটাই প্রত্যাশা চাঁদপুরবাসীর।

আমি অতি সামান্য একজন মানুষ তারপর ও জীবনে অনেক অনেক ভালোবাসা ও সম্মান স্নেহ মায়া মমতা পেয়েছি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান স্যারের কাছ থেকে। সেই ঋণ পরিশোধের উপায় আমার জানা নেই। যার ভালোবাসায় আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনি ভালো থাকুন পরিবারকে নিয়ে। আমার জন্য দোয়া করবেন। যতদিন বেঁচে থাকি যেনো ভালো থাকি সুস্থ্য থাকি। আর আপনার মত সততা নিয়ে সম্মানের সাথে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারি।

-সাইফুল ইসলাম সিফাত
গণমাধ্যম কর্মী
চাঁদপুর।

Facebook Comments

Check Also

মৃত্যুর আগে সেলিম ফিরতে চান চাঁদপুরের আপনজনদের কাছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : ৪০ বছর আগে যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সেলিম মিয়া, তখন সবেমাত্র ম্যাট্রিক …

Shares
vv