ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / উচ্চ জোয়ারে মেঘনার পানিতে হাইমচরে শত কোটি টাকার ক্ষতির আশস্কা

উচ্চ জোয়ারে মেঘনার পানিতে হাইমচরে শত কোটি টাকার ক্ষতির আশস্কা

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি, হাইমচর : চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে আকস্মিকভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারে পানি বেড়ে যায় অনেক উচ্চতায়। এতে চাঁদপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল এবং হাইমচর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। চাঁদপুর শহরের সকল সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় জোয়ারের পানি ঢুকে যায়। শহরে অবশ্য কয়েক ঘন্টা পর পানি নেমে যায়। তবে কিছু কিছু পাড়া মহল্লায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় পানি সরতে সময় লাগছে।

এদিকে হঠাৎ এভাবে মেঘনার পানি অস্বাভাবিকভাবে ফুঁসে উঠায় চাঁদপুর সদরের চরাঞ্চল, নিম্নাঞ্চল এবং হাইমচরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভাটার সময় পানি নেমে যাওয়ার পর শহর, গ্রামে-গঞ্জে ফুটে উঠছে সে সব ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। বহু রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুর জলাশয়ের বিপুল পরিমাণ মাছ। চোখের পলকে দোকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় ব্যবসায়ীদের অনেকের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।

এদিকে হাইমচর রক্ষা বাঁধের যে দুটি স্থান দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবল বেগে ঢুকেছিল, সেখানে ধীরগতিতে চলছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাইলিং কাজ।

হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী জানান, আকস্মিক স্মরণকালের ভয়াবহ জোয়ারে চরভৈরবী, নীলকমল, হাইমচর সদর ও গাজীপুর এ চারটি ইউনিয়ন ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়। এছাড়া উত্তর আলগী ইউনিয়নের দুইটি ও দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের দুইটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তিনি বলেন, হাইমচর উপজেলাবাসীর বাসস্থান, পানের বরজ, ফসলী জমি, গবাদী পশু, মাছের ঘের সবই পানিতে একাকার। প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনো জোয়ারে গ্রামের পর গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় আছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী আরো বলেন, এলজিইডির ব্রিজ সংলগ্ন যে মাটির বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামের পর গ্রাম নিমজ্জিত হয়েছিলো, সে স্থানটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে গাফিলতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা যেভাবে কাজটি করা দরকার সেভাবে শুরু করেনি। হাইমচরকে পানি থেকে রক্ষার জন্যে আমার উপজেলার শত শত মানুষ কাজ করার জন্য স্বেচ্ছাশ্রম দিতে প্রস্তুত।

তিনি জানান, বানভাসি মানুষের মাঝে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির পক্ষ থেকে শুকনো খাবার এবং ত্রাণের চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বাবুল আক্তার জানান, গত বুধবার উচ্চ জোয়ারের কারণে মেঘনার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। বুধবার জোয়ারের সময় মেঘনার পানি বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলো। এখন জোয়ারের পানির চাপ অনেকটা কমতির দিকে। গতকাল শুক্রবার সান্ধ্যকালীন জোয়ারে মেঘনার পানি বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা বুধবারের তুলনায় ৩২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে নদীর পানি।

তিনি সুরক্ষা বাঁধ প্রসঙ্গে বলেন, মহজমপুর ও চরভাঙ্গা ব্রীজ স্থানে আমরা বালুভর্তি সিনথেটিক ব্যাগ দিয়ে পাইলিং তেরি করছি। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সেখান দিয়ে পানি ঢোকার পথ বন্ধ করা শেষ হবে।

তিনি আরো জানান, চাঁদপুরে বন্যা হবার আশঙ্কা নেই। অস্বাভাবিক উচ্চতায় জোয়ারে পানি বেড়েছে, তা আবার ভাটার সময় নেমে যাচ্ছে।

এদিকে গত দু’দিন জোয়ারে পানি বৃদ্ধি কম হওয়ায় চাঁদপুর সদর উপজেলা ও শহর এলাকার অনেক রাস্তাঘাটের ধ্বংসাবশেষ ফুটে উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এবং সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও চেয়ারম্যানদের সাথে নিয়ে নিমজ্জিত গ্রামগুলো এবং রাস্তাঘাট পরিদর্শন করেছেন। চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার জাফরাবাদ দোকানঘর এবং রঘুনাথপুর ওয়াপদা পর্যন্ত নতুনভাবে সংস্কার করা পৌরসভার এ দুটি রাস্তা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন

মোঃ রাছেল, কচুয়া : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের দহুলীয়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র …

vv