ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ভিক্ষাবৃত্তি হোক দূর’ ‘ভিক্ষুক মুক্তকরণ, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে

ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ভিক্ষাবৃত্তি হোক দূর’ ‘ভিক্ষুক মুক্তকরণ, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে

জেলা প্রশাসক, চাঁদপুরের খোলা চিঠি

প্রিয় চাঁদপুরবাসী,

আমার সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আমার বিশ্বাস, আপনারা সকলে জানেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ভিক্ষুকমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা করেছেন।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষের কাছে ভিক্ষা করতে থাকবে, কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উঠবে যে, তার মুখম-লে এক টুকরা মাংসও থাকবে না।” বুখারী-১৯৯

অথচ আমাদের সমাজের কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তিকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছেন, আবার অনেকেই জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভিক্ষা করছেন। আর সহজে সওয়াব ও পুণ্য অর্জনের আশায় আমরা ভিক্ষা প্রদান করছি।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর পঞ্চম তফসিলের ৩০নং অনুচ্ছেদে ভিক্ষার জন্য বিরক্তিকর কাকুতি-মিনতি করা বা শরীরের কোন বিকৃত অঙ্গ বা নোংরা ক্ষতস্থান প্রদর্শন করার জন্য ৮৯নং ধারায় অনধিক ১৫,০০০ (পনের হাজার) টাকা অর্থদ-ের বিধান আছে।

প্রিয় চাঁদপুরবাসী,

আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, চাঁদপুর জেলা থেকে ঘৃণিত পেশা ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ দূর করার লক্ষ্যে ৪৭৫৬ জন ভিক্ষুকের একটি ছবিসহ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ধরণের উপকরণ সহায়তা প্রদান, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি/সংস্থা/সংগঠন ভিক্ষুকমুক্তকরণ তহবিলে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া চাঁদপুর জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী একদিনের বেতন ভিক্ষুকমুক্তকরণ তহবিলে জমা প্রদান করবেন।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভিক্ষুকদের চাহিদার আলোকে তাদেরকে পুনর্বাসিত করা হবে। তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলায় ভিক্ষকমুক্তকরণ সংস্থা সংগঠন করে সংস্থার নামে ব্যাংকে একটি হিসাব খোলা হয়েছে।

জেলার হিসাবের নাম : ‘ভিক্ষুকমুক্তকরণ, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ হিসাব নং ০১০০০৯৪৯৬৪১০০, জনতা ব্যাংক, চাঁদপুর শাখা। অনলাইভিত্তিক এ হিসাবে যে কোন সময় যে কোন স্থান হতে অর্থ জমা দেয়া যাবে।

প্রিয় চাঁদপুরবাসীকে অনুরোধ করছি, যারা ভিক্ষা দিতে ইচ্ছুক তারা বেশি সংখ্যক ভিক্ষুককে অল্প অর্থ/শাড়ি/লুঙ্গি না দিয়ে একজন ভিক্ষুককে একবারে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণে সাহায্য করুন। এক্ষেত্রে আপনারা যাকাতের অর্থও জেলা ও উপজেলা ভিক্ষকমুক্তকরণ তহবিলে জমা দিতে পারেন।

এটিই সত্য যে, “বিধাতা আমাদের হাত দিয়েছেন কাজ করে খাওয়ার জন্য ভিক্ষা করার জন্য নয়।” প্রকৃতপক্ষে, ভিক্ষা করে যত টাকাই আয় করা হোক না কেন, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে লজ্জা আর অপমান ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না।

প্রিয় চাঁদপুরবাসী,

ভিক্ষাবৃত্তি একটি অভ্যাসগত সমস্যা, মানসিক সমস্যা এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা। তাই ভিক্ষা দিয়ে ভিক্ষুক সৃষ্টি না করে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানে সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য আমি অনুরোধ করছি। আসুন সকলে মিলে চাঁদপুর জেলাকে ভিক্ষকমুক্ত করে জেলাবাসী ও দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করি।

মোঃ অব্দুস সবুর মন্ডল

জেলা প্রশাসক

চাঁদপুর।

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ায় ৭ বছরের শিশুকে ললিপপের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ, থানায় মামলা

মোঃ রাছেল : কচুয়ায় বাড়ির সম্পর্কীয় দাদা কর্তৃক দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী (মি) (৭) ধর্ষণের …

vv