ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / ‘আদালতে স্বীকারোক্তি’ মা ও তার প্রেমিক প্রিয়া খুনের মাস্টারমাইন্ড !!!

‘আদালতে স্বীকারোক্তি’ মা ও তার প্রেমিক প্রিয়া খুনের মাস্টারমাইন্ড !!!

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে আলোচিত নওরোজ আফরিন প্রিয়া (২১) খুনের মামলায় তার মা তাহমিনা সুলতানা রুমি (৪৩) ও তার প্রবাসী প্রেমিক আঃ হান্নান এ খুনের ‘‘মাস্টারমাইন্ড’’ বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ মামলার বাদী প্রিয়ার মায়ের অসংলগ্ন আচরন স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সন্দেহের তালিকার নজরদারিতে শুরু থেকেই রাখে তাকে ।

গত বুধবার আটককৃত প্রিয়ার মা রুমি ও তার পরকীয়া প্রেমিক আঃ হান্নানকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। ওই দিন বিকেলে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে এ খুনের ‘‘মাস্টারমাইন্ড’’ প্রিয়ার মা, ও তার প্রেমিক হান্নান দায় মেনে স্বীকারোক্তি দেয়। মুহুর্তের মধ্যে বিষয়টি চাউর হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এছাড়া শাহরাস্তি উপজেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে শুরু হয় চুলচেরা বিশ্লেষণ। সংঘটিত ওই খুনের ঘটনার পূর্বে স্থানীয়রা ওই নারীর বেসামাল আচরণ নিয়ে উম্মা প্রকাশ করে আসছিলেন । ওই নারী রুমি এবং প্রেমিক হান্নানের অসম পরক্রিয়া যুগলের বয়সের ফারাক প্রায় ১৩ বছর দৃষ্টি।তখন অভিযোগ তোলা ব্যক্তিদের নিকট তথ্য-প্রমাণ না থাকায় স্থানীয়দের ওই দাবি ধোপে টেকেনি। এখন প্রিয়ার মা ও তার প্রেমিক আটক হবার পর স্থানীয় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ একই বক্তব্য দিচ্ছেন। কি করে একজন মা তার জৈবিক লালসা চরিতার্থ করতে নিজ গর্ভের ধন একমাত্র কন্যাকে খুনের নীলনকশা করতে পারেন!

প্রিয়ার স্বজন, পুলিশ ,স্থানীয় বাসিন্দা সূত্র জানায়, উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপি’র ছোট পোদ্দারবাড়ি ইসমাইল হোসেন জীবিকার প্রয়োজনে বহুবছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। ওই সুযোগে ৫-৬ বছর ধরে একই গ্রাম (দেবকরা) মৃত. মুনসুর আলী ভূঁইয়ার পুত্র মোঃ আঃ হান্নান (৩০) প্রিয়ার মা রুমির সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক স্থাপন করে অভিসারে মেতে উঠলে এটি এলাকায় চাউর হতে থাকে।

ওই সময় এ গুঞ্জন স্থানীয়দের ছাড়িয়ে প্রিয়াকে প্রভাবিত করলে, সেও একদিন মা ও অভিযুক্ত যুবক হান্নানকে বেসামাল অবস্থায় ধরে ফেলে। ওই সময় প্রিয়ার বাবা ও প্রবাসী স্বামী ইসমাইল হোসেন স্ত্রী রুমির এমন জীবন চারণের কথা শুনে সম্পর্ক অবসরের সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর দুটো বাচ্চা কথা চিন্তা করে বিষয়টি থানা-পুলিশ মামলায় গড়িয়ে অবশেষে গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি হয়। ওই সময় স্থানীয়দের আপত্তির মুখে হান্নান ঘটনা রটনা সামলিয়ে (বিদেশে) সৌদি আরব পাড়ি জমায়। তারপর বিষয়টি ঢাকা পড়ে যায়।

আরও পড়ুন… শাহরাস্তিতে মায়ের অবৈধ সম্পর্কে বাধা দেয়ায় প্রেমিককে দিয়ে খুন করান কন্যাকে, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি

এদিকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় প্রবাসী ইসমাইল রুমি দম্পতির একমাত্র কন্যা নওরোজ আফরিন প্রিয়াকে (২১) কুপিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। তখনই আবার প্রিয়ার মা রুমি ও হান্নানের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে চলে আসে। তখনই জানা যায়, ওই প্রবাসী পরকীয়া প্রেমিক হান্নান প্রিয়া খুনের মাসখানিক পূর্বে দেশে অবস্থান নেয়। তারপরেই এই নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়।

পুলিশ ভাষ্যমতে,সংঘটিত খুনের ঘটনাটি ওই বাড়িতে দক্ষিণমুখী তিন কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা ঘরে গত বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মায়ের প্রেমিক হান্নানের সামনে ২ খুনি কুপিয়ে হত্যা করে প্রিয়াকে। পরে শাহরাস্তি থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত গিয়ে নওরোজ আফরিন প্রিয়ার সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। তখন প্রিয়ার মা রুমি (৪৩) বাদী হয়ে শাহারাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-১৬,তাং- ১৭/০৯/২০২১, ধারা-৪৫৭/৩৮০/৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন। যার তদন্তভার অর্পণ করা হয় পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আসাদুল ইসলামের উপর।চাঁদপুর পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার) সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম চৌধুরী (কচুয়া সার্কেল), শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মোঃ আব্দুল মান্নান ও মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে বাদী সাক্ষী স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সকল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন। একপর্যায়ে বাদী প্রিয়ার মা রুমির আচরনে কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান তার বাড়ির পাশ্ববর্তী জনৈক মোঃ হান্নান হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক।

আরও পড়ুন… শাহরাস্তিতে প্রিয়া হত্যায় আটক মায়ের পরকীয়া প্রেমিক হান্নান !

বাদীর মেয়ে প্রিয়া প্রতিনিয়ত পরকীয়ায় লিপ্ত মাকে ওই পথ থেকে ফেরাতে চেষ্টা করে। এতে অসম প্রেমে অন্ধ রুমি ও হান্নান ফন্দি আটে প্রিয়াকে সরিয়ে ফেলার। ঘটনার দিন ভিকটিম প্রিয়ার মা তার নাতনি আনহারকে (১৮মাস) নিয়ে বিকেল ৪টায় পৌরসভার ঠাকুর বাজারের ডাক্তারের কথা বলে কেটে পড়ে। ওই সময় বাড়িতে একমাত্র পুত্র দিয়া হোসেন পরশ (১৯) অবস্থান করে। পরে রুমি ডাক্তার দেখিয়ে নাতনিকে নিয়ে মাগরিবের পর বাসায় ফিরে। তিনি আসামাত্র পুত্র দিয়ান স্থানীয় খিলা বাজার ঘুরতে চলে যায়। ওই সময়ে অভিযুক্ত হান্নান তাদের ঘরে ঢুকে প্রিয়ার সঙ্গে কথা বলতে থাকে।

আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টায় স্থানীয় জান্নাতের বাড়িতে রুটি বানানোর কথা বলে ঘর খালি রেখে কৌশলে মা রুমি কেটে পড়ে। তখন ঘরে তার কন্যা ভিকটিম প্রিয়া ও তার নাতনি অবস্থান করলে আসামী হান্নানের ০২ (দুই) সহযোগী ঘরের মধ্যে সঙ্গোপনে প্রবেশ করা মাত্রই তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দ্বিয়ে প্রিয়ার গলার ও মাথার পেছনে ডান চোয়াল এবং পিঠে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক মামলার অভিযুক্ত ও মূল পরিকল্পনাকারী মামলার বাদী তাহমিনা সুলতানা প্রকাশ রুমি ও হান্নানকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

Facebook Comments

Check Also

ব্যক্তিকে নয়, শেখ হাসিনার নৌকাকে আবারো বিজয়ী করুন : চেয়ারম্যান প্রার্থী আল মামুন পাটওয়ারী

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউপি নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় …

Shares
vv