ব্রেকিং নিউজঃ
Home / আমাদের খবর / আতাউল করিম একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক সাংবাদিক

আতাউল করিম একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক সাংবাদিক

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে আতাউল করিম একটি জলন্ত উদাহরণ। একজন সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিক হিসেবে কচুয়া তথা চাঁদপুর জেলার সবার কাছে তিনি অতি প্রিয় পরিচিত মুখ। সাংবাদিকতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব, সততা ও সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা তাকে অন্য সাংবাদিকের চেয়ে ব্যতিক্রম করে তুলেছে। সাংবাদিকতা জীবনে কখনও তিনি অন্যায়ের কাছে হার মানতে শিখেন নি। স্বার্থ, প্রলোভন, অর্থবিত্ত তাকে কোনোদিন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে দমাতে পারেনি। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও পত্রিকার নীতিমালার অনুসরণে তিনি কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেন। এমন আদর্শকে ধারণ করে প্রায় ১৬ বছর মফস্বলে সাংবাদিকতা করছেন আতাউল করিম। কচুয়ার সমস্যা-সম্ভাবনা ও গণমানুষের কথাগুলোকে অবিরাম তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে তার অগাধ পদচারণা।

সম্প্রতি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কবি, লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক মোঃ মহসিন হোসাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে আতাউল করিমের পারিবারিক ও ১৬ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের নানান ঘটনার কথা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আতাউল করিম ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারী কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম নাজিমুদ্দিন সেই যুগের বিশিষ্ট সুনামধন্য ব্যক্তি ছিলেন। তার মাতা মাজেদা বেগম। আতাউল করিম গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৮৭ সালে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৯৩ সালে তিনি একই কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন।

আতাউল করিম ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি করতেন। ২০০৩ সালে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন। ২০০৪ সালে আতাউল করিমের সম্পাদনায় পাক্ষিক কচুয়া কন্ঠ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি জাতীয় দৈনিক জনপদ, বাংলাদেশের খবর ও চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক চাঁদপুর জমিন, চাঁদপুর সংবাদ, দৈনিক চাঁদপুর, আলোকিত চাঁদপুর এবং চাঁদপুর খবর পত্রিকায় কাজ করেছিলেন।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কতিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ১৬ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে আতাউল করিম বিভিন্ন অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন। কচুয়ার নিপীড়িত, লাঞ্ছিত মানুষের ন্যায্য অধিকার নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন লিখে সহস্র মানুষের চিকিৎসার, ভাত কাপড়ের, পুঁজি, বাসস্থানের ব্যবস্থাসহ আর্থিক সাহায্য প্রদানে সহযোগিতা করাসহ মানুষের করুণ কাহিনী লিখে বিভিন্ন সময়ে তাদের চিকিৎসা বাবদ ও স্বচ্ছলভাবে চলার পুঁজি করে দিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি অনেক দুঃসাহসিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভবন।

শিক্ষা জীবন, সাংবাদিকতা ও সাহিত্যাঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখায় শ্রেষ্ট অধ্যক্ষ, শ্রেষ্ট সুপার, উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ট প্রধান শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ট প্রধান শিক্ষক, শ্রেষ্ট সাংবাদিক, শ্রেষ্ট শিক্ষাবিদ, শ্রেষ্ট সংগঠকদের যাচাই- বাচাই করে প্রতিবছর তাদের  সম্মাননা প্রদান করেন আতাউল করিম। যেটি সমাজের জন্য অনেক বিশাল একটি অবদান।যার মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সমাজের জন্য কাজ করতে উৎসাহ পায়। উৎসাহ পায় শিক্ষকগন শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর জন্য।সাহিত্য লেখার ক্ষেত্রে সাহিত্যিকদের লেখার উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। পেশাজীবীরা তাদের পেশাগত জীবনে কাজ করতে উৎসাহ পায়।শিক্ষার্থীরা পায় তাদের তরুণ ভবিষ্যৎ। এই সম্মাননার কারনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে উৎসাহ অনেক বেড়ে যায় যেসব কাজ সমাজের জন্য সবাই করতে পারেনা। আর এই মহৎ কাজটি সাংবাদিক আতাউল করিমের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বে সর্বদা এগিয়ে যান। যার ফল স্বরুপ মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনবার নির্বাচিত সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। আতাউল করিম সাংবাদিকতায় যেমন অবদান রেখেছেন শিক্ষা ক্ষেত্রেই তার অবদান কোন অংশে কম নেই। কচুয়ার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ  উন্নয়নের একটি দিক দিয়ে সকল সাংবাদিক, সমাজ প্রতিনিধিদের চেয়ে কোন অংশে কম কাজ করেননি আতাউল করিম। কচুয়ার প্রতিটি গ্রামে তার রয়েছে অগাধ সম্মান ও ভালবাসা।

আতাউল করিম সমাজের জন্য একটি আইকন। তিনি স্পষ্টবাদী, বিনয়ী, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি। তিনি বড় ছোট সকলের সাথে সর্বদা হাসি মুখে থাকতে পছন্দ করেন। ভালো কাজের স্কীকৃতি দিতে যার মধ্যে নেই কোনো কার্ফণ্য । এছাড়াও তিনি নিজের প্রচেষ্টায় সামাজিক সংগঠন, আর্ট স্কুল, সংগীত শিখানোর স্কুল প্রতিষ্টা করেন। সাথে সাথে প্রকাশক হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন প্রকাশিত করেন যাদের মধ্য সাহিত্যের কান্না ম্যাগাজিনটি অন্যতম।

জিজ্ঞাসার এক পর্যায়ে আতাউল করিম বেশ কয়েকটি স্মৃতি তুলে ধরে নতুন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি এ পেশা নিয়ে আশাবাদী। এক সময় এ পেশায় তেমন বেতন ভাতা ছিল না। এখন এ পেশায় অনেক শিক্ষিত মেধাবীরা প্রবেশ করেছেন। নতুন যারা এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন তাদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে সংবাদপত্রের পাশাপাশি গুণীজনদের জীবনী ও প্রচুর বই পড়তে হবে। পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের লেখনি সমাজের আয়নায় পরিণত হোক। যা দেখে মানুষ সচেতন হবে। আমরা চাই, এলাকার অন্যায়, অত্যাচার, বঞ্চনা, শোষণের বিপক্ষে সাংবাদিকের কলম ও ক্যামেরা যথাযথ কাজ করুক ও ভালো কাজের প্রশংসার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠুক। তাদের লেখা পড়ে মানুষ ভালো কিছু শিখবেন ও উৎসাহিত হবেন। ভালো কাজ করতে অনুপ্রেরণা পাবেন। মফস্বল সাংবাদিকদের মাধ্যমে সমাজের উপকৃত হোক।

কয়েকজন প্রবীণ সাংবাদিক আতাউল করিম সম্পর্কে বলেন, তিনি একজন শিক্ষিত সৎ ও সাদামনের মানুষ। তিনি নীতি নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি আমাদেরসহ অনেকেরই সাংবাদিকতার গুরু ও আদর্শ। তারই হাত ধরে অনেকেই সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেছেন। সর্বজনস্বীকৃত তিনি একজন ভালো মনের মানুষ। এ কারণে সব সাংবাদিকরা উনাকে অভিভাবক মনে করেন। তিনি আমাদের চোখে সাংবাদিক হিসেবে সমাজের একজন আইকন। আতাউল করিম আমাদের কচুয়ার সাংবাদিকদের একজন আদর্শ। সততা ও ন্যায়ের সঙ্গে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন। তার সংবাদে অসংখ্য মানুষও উপকৃত হয়েছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। আতাউল করিম একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক সাংবাদিক।

লেখক : মোঃ মহসিন হোসাইন

Facebook Comments

Check Also

‘মানুষের নির্ভরতার জায়গা হলো আলোকিত সকাল’

মো. মজিবুর রহমান রনি : দেশবরেণ্য ব্যক্তিদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে আলোকিত …

vv