ব্রেকিং নিউজঃ
Home / স্বাস্থ্য / আতংকিত নয়, নিজেরা সচেতন হলেই করোনা প্রতিরোধ সম্ভব : ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল

আতংকিত নয়, নিজেরা সচেতন হলেই করোনা প্রতিরোধ সম্ভব : ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল

গোলাম মোস্তফা : সারাবিশ্ব কে আতংকিত করে রাখা  ভাইরাস, যার নাম “” করোনা “” বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে এ ভাইরাসে। সেই “” করোনা”‘ নামক ভাইরাস প্রতিরোধে সদ্য ট্রেনিং প্রাপ্ত চিকিৎসক   ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে। এ হাসপাতালে আগত চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশীদের সেবার দিক থেকে তিনি তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে কোনো ধরনের গাফিলতি নিজেও করেন না এবং সহকর্মীদের করার সুযোগও দেন না। কর্তব্য পালনে যথাসাধ্য চেষ্টা করে চলছেন। যে কারণে একজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁর এই শহরে রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। যার ফলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসতে সক্ষম হন।

বাংলাদেশের মানুষকে করোনা থেকে উত্তরণ এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক সারাদেশের প্রতিটি জেলার দক্ষ, অভিজ্ঞ ও কাজের প্রতি আগ্রহী এমন চিকিৎসকদের নিয়ে একদিনের একটি ট্রেনিং গত ১৭ মার্চ ঢাকায় আয়োজন করা হয়। সেই ট্রেনিংয়ে ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল এবং তাঁর স্ত্রী ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন অংশগ্রহণ করেছেন। ডাঃ পলিন চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

বিশ্বব্যাপী আতংকিত এক ভাইরাস “” করোনা”” প্রতিরোধ বিষয়ক  ট্রেনিংপ্রাপ্ত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও  ডাঃ সুজাদ্দৌলা  রুবেলের মুখোমুখি হলে তিনি চাঁদপুর জেলাবাসীর উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন, এ রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, শুধু নিজেরা সচেতনভাবে চলাফেরা করলে এবং কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ভাইরাসটি যে ব্যক্তিকে আক্রান্ত করবে তার শরীরে ১৪ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবে, এরপর এটি দুর্বল হয়ে যাবে। এর মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির বিভিন্ন লক্ষন দেখা দিবে, সেই লক্ষনগুলো দেখা মাএ ঐ ব্যক্তি তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিলে মহান আল্লাহর রহমত তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। আর  এ ১৪ দিনের ভেতর আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষন গুলো হলো –   জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথার দেখা দিবে। ঠিক ওই সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তি যথাযথ লক্ষণগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যথাযথ সময়ে সম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে পারলে তাকে এ রোগ থেকে নিরাময় করা সম্ভব। উল্লেখিত লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি বা দুটি দেখা দেয়ার পূর্বে শারীরিকভাবে যদি কেউ তা অনুভব করে তখন ডাক্তারের পরামর্শ নিবে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত করোনা প্রতিরোধ কমিটির সাথে যোগাযোগ করবে। তাকে কোনোভাবেই বসে থাকলে চলবে না। প্রাথমিক পর্যায়ে তা তার শারীরিক সক্ষমতা দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এ রোগ বা এ ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে নিজেকে সচেতনভাবে চলাফেরা করতে হবে। যে কোনো মানুষের হাঁচি-কাশি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কারণ, হাঁচি আর কাশির মধ্য দিয়ে জীবাণুটি নিচে পড়ে অর্থাৎ তা হয়তো টেবিলে, ল্যাপটপ, মোবাইলে, যে কোনো জায়গায়, হাতে বা মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পড়ে ভাইরাসে আক্রান্ত করতে পারে। এজন্য যেকোনো ব্যক্তি বাইরে চলাফেরার পর তার ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই তাকে পুরো হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। শুধু হাত নয়, হাতের কনুই পর্যন্ত সাবান দিয়ে বা ওয়াশিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যদি সম্ভব হয় তাকে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে তারপর পরিবারের সদস্যদের সাথে একত্রিত হতে পারবে। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ঢোকার পূর্বে তাকে সবসময় হাতের কনুই পর্যন্ত ধুয়ে প্রবেশ করতে হবে।

এখানে সকলের জানা থাকা উচিত যে, সাধারণত এ ভাইরাসটি মানুষের হাতের মাধ্যমেই বেশি ছড়িয়ে থাকে অর্থাৎ এটি হাতের মাধ্যমে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে যেতে পছন্দ করে। হাত দিয়ে আমরা নাক-মুখ সবসময় ধরি বা যে কোনো কাজে ব্যবহার করি। যে কারণে হাতের মাধ্যমে নাক-মুখ দিয়ে এটি আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শ্বাসনালীতে গিয়ে আক্রমণ শুরু করে। এজন্যে ঘরে বা চার দেয়ালের মধ্যে ঢোকার পূর্বে আমাদের প্রত্যেকের উচিত কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ভালো করে সাবান বা ওয়াশিং পাউডার দিয়ে হাত ধোয়া।

তিনি আরো বলেন, অনেকেই বলেন যে, বাতাসের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। এটি ঠিক না। এটি সর্বোচ্চ ১ মিটারের বেশি বাতাসে যেতে পারে না। তাছাড়া আমরা অনেক সময় হোটেলে বা বাসা বাড়িতে খাওয়ার ক্ষেত্রে মুখের রুচির জন্যে কিছু কাঁচামাল খেয়ে থাকি। সেটি আমাদের পরিহার করতে হবে।

তিনি ভাইরাসটি ছড়ানোর বিষয়ে বলেন,  দেশে যে সকল ব্যক্তি এ সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই প্রবাসী, তাদের পরিবারের সদস্য বা তাদের স্বজনগণ। এজন্যে আমাদের (চিকিৎসকদের) বক্তব্য হচ্ছে, প্রবাসীরা যারা দেশে আসছেন, আপনারা অন্তত ১৫ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকুন। এতে আপনি নিজে, পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং পাড়া প্রতিবেশীসহ সকলে নিরাপদে থাকবে।  এ ভাইরাস প্রতিরোধে এটিই হলো সবচেয়ে উওম পন্হা বা  প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ একটি আলাদা রুমে অবস্থান করবেন। তারা বাথরুম, গোসল, পরিষ্কার সকল কিছুই এবং খাওয়া-দাওয়া ওই রুমের মধ্যেই করবে। এ নিয়মটি মেনে চললে অর্থাৎ সে সম্পূর্ণ আলাদা থাকলে পরিবারের অন্য কেউ এ রোগে আক্রান্ত হবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তাদের পরামর্শে চিকিৎসা সেবা নিতে হবে। সে মোতাবেক প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শে আইসোলেশনে থাকবে।

এছাড়া এই বিষয়ে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত সন্দেহ হলে, আক্রান্ত হয়েছে এমন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা সদরে যে আইসোলেশন রয়েছে, সেখানে গিয়ে আইইডিসিআর (IEDCR)-এর সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে হবে। সে অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা চালাতে হবে।

তিনি চাঁদপুরবাসীর উদ্দেশ্য বলেন, হতাশ না হয়ে সচেতন হোন, সচেতনতার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ সম্ভব। এজন্যে সরকারের পক্ষ থেকে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা ও উপজেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে আলাদা আলাদা করে আইসোলেশন ওযার্ড ও বেড রয়েছে। সেখানে আপনারা আপনাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ নিতে পারেন। শুধু তাই নয়, সরকার ইতিমধ্যে চিকিৎসকরা যেন নিরাপদে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে পারেন সেজন্য পিপিই অর্থাৎ পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট, চিকিৎসকদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন একজন চিকিৎসকের গাউন ড্রেস, চশমা, গ্লাব্স, গগস, জুতা ও মাস্কসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ সকল কিছু ইতিমধ্যে সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যা ইতিমধ্যে পৌঁছে  দিয়েছে। যা আমাদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালেও এসে পৌঁছেছে।

তিনি চাঁদপুর জেলা বাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অনেক অনেক সৌভাগ্যবান, এ জেলার  সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও  হয়ে আমি এবং চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন ট্রেনিং নিয়েছি। আমরা উভয়ই  এ জেলার ট্রেইনার হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে জেলায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ট্রেনিং দেবো। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত পত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসে পৌঁছেছে।

ডাঃ সুজাউদ্দৌলা   রুবেল সর্বোপরি স্থানীয় জেলাবাসীকে বলেন, আপনি সচেতন হোন,পরিবারের সদস্য ও  পাড়া প্রতিবেশী কে এ ” করোনা” ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন করে তুলুন। একান্তই কোনো কাজ ছাড়া বা  প্রয়োজন ছাড়া আমরা বা আপনি  বাসা থেকে বের না হয়ে বাসায় থাকুন। প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধম অনুযায়ী  মহান সৃষ্টিকতা কে স্মরণ করুন, তিনি আমাদের রক্ষা করবে। আর আমরা এ   বিষয়ে কোনো গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিয়ে সরকারের এবং   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক যে সকল নির্দেশনা বা বিশেষ করে সরকারি যে সকল নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে তা যথাযথ ভাবে পালন করে,  সে সকল নির্দেশনা মেনে সচেতন হয়ে চলাফেরা করার অনুরোধ জানান।

Facebook Comments

Check Also

মতলবে তথ্য গোপন করে হাসপাতালে ভর্তি, বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি : করোনাভাইরাস উপসর্গের তথ্য গোপন করে ডায়রিয়ার কথা বলে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার আন্তর্জাতিক …

vv