ব্রেকিং নিউজঃ
Home / দেশজুড়ে / আগুনে পুড়ে যায় স্বপ্ন
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় সুদূর চাঁদপুর থেকে এখানে এসে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। ফাইল ছবি

আগুনে পুড়ে যায় স্বপ্ন

রিফাত কান্তি সেন
সাংবাদিক/কলামিষ্ট

জলে পড়লে পাওয়া যায়, আগুনে পুড়লে অবশিষ্ট কিছুই থাকে না। বলছিলাম আগুনের ভয়ংকর লেলিহান শিখার কথা। তবে কিছু কিছু সময় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অনেক সময়ই কিছুটা হলেও রক্ষা পায়। দুর্ভাগ্য সেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটাই চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় নেই। তাই অনেকের স্বপ্নই পুড়ে যায় আগুনের লেলিহান শিখায়।

২০ এপ্রিল, শুক্রবার ভয়ংকর আগুনে পুড়ে গেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বেশ কটি দোকান। পুড়ে ছাই হয়েছে অনেক মানুষের স্বপ্ন। বেঁচে থাকার অবলম্বন দোকানগুলো পুড়ে যাওয়ায় অনেকেই হয়েছেন নিঃস্ব। সূত্র বলছে আগুন লাগার ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

এতে তাদেরও দোষ নেই সুদূর চাঁদপুর থেকে ফরিদগঞ্জে এসে আগুন নেভানোটা অনেকটাই আকাশ-কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। মানববন্ধন হয়, খবর হয়, পত্রিকা-টিভিতে নিউজ হয়, শুধু হয় না ফরিদগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। গত বেশ কয়েক বছরই দেখে আসছি আগুন নেভার পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। দোষটা তাদের নয়, দোষটা দূরত্বের।

ফরিদগঞ্জ একটি উপজেলা, সেখানে রয়েছে অসংখ্য দোকানপাট, ব্যবসা কেন্দ্র। গড়ে ওঠেছে কত মানুষের স্বপ্নের, জীবিকার্জনের হাতিয়ার। কিন্তু গড়ে ওঠেনি আগুন থেকে তাদের সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা। এর আগেও কয়েকবার ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরিণতি একই! নেভানোর আগে সব ধুলিসাৎ। বারবারই ফরিদগঞ্জবাসী দাবি তোলে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের। কর্তাব্যক্তিদের কানে হয়তো সে খবর পৌঁছায় না।

উপজেলা শহরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে এমন অবস্থা, তবে প্রত্যান্তঞ্চলে ঘটলে কী অবস্থা হবে, একবার ভাবুন? আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যায় স্বপ্নরা। চেয়ে দেখে তারুণ্য, থাকে না কিছু করার। ওরা সময় মতো আসে না, বাঁচায় না স্বপ্নকে। ওদেরই বা দোষ কী, ভাগ্যে যে খোলে না।

ভাগ্য খুলবে কবে? কবে ফরিদগঞ্জবাসীর ভাগ্যে জুটবে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন? কে বুঝবে মানুষের এ সীমাহীন কষ্ট? কবে ঘুচবে এ ভোগান্তি? এমন হাজারো প্রশ্ন এখন সাধারণ জনতার মাথায় ঘুরপাক খায়। তবু তারা স্বপ্ন দেখে একদিন ফরিদগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হবে।

অমর দাস নামে একজন স্কুল শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় দিয়ে লিখেন, ‘দোকান নয় এ যেন স্বপ্ন পুড়ে ছাঁই হয়ে আকাশে উড়ে যাচ্ছে। আর অসহায় জনগণ দাঁড়িয়ে সে স্বপ্ন পোড়া দেখছে। আজ এমন এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে ফরিদগঞ্জ বাজারে। পুড়ে গেছে কেরোয়া ব্রীজ সংলগ্ন হোটেল কনফেকশনারিসহ অনেক দোকান। ফরিদগঞ্জে শুধু একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকার কারণে বছর বছর এমন করুণ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে হচ্ছে ফরিদগঞ্জবাসীকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো আর কতদিন এমনিভাবে মানুষগুলোর স্বপ্ন পুড়বে আশাগুলো হতাশায় আর পরিবারগুলো সীমাহীন কষ্টে জীবন যাপন করবে? আজ অন্য একজনের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কাল হয়তো আমার হবে। দোকানদারদের একজনে বিপদে অন্যজন এগিয়ে যায় হয়তো কিন্তু আগুনের কাছে সবাই অসহায়। ফরিদগঞ্জবাসীর দুর্ভাগ্য সরকার আসে সরকার যায় জনপ্রতিনিধি আসে জনপ্রতিনিধি যায় কিন্তু জনগণের দুর্ভোগ আর শেষ হয় না। মনে হয় দিন দিন আরও বাড়ছে। এমন কেউ কি নেই যে ফরিদগঞ্জবাসীর এই দুঃখের অবসান করবে? অপেক্ষা এখন আবার অন্য কারো স্বপ্ন পুড়েছে এমন দৃশ্য দেখার জন্য’।

Facebook Comments

Check Also

সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে মহামায়ায় বিশাল মানববন্ধন

মাসুদ হোসেন : সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধুকে ধর্ষণ ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধুকে …

vv