ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / আইন শৃঙ্খলা ঠিক রেখে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ : ওসি মতলব দক্ষিণ

আইন শৃঙ্খলা ঠিক রেখে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ : ওসি মতলব দক্ষিণ

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব: স্বপন কুমার আইচ, মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ। যার নেতৃত্বে মতলব দক্ষিণ থানা যে কোন সময়ের তুলনায় একটি ভালো আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতিক্রম করছে।

৩৬ জন কনেস্টবল, ৯ জন এএসআই, ৮ জন এসআই, একজন তদন্ত ওসি এবং থানা প্রশাসনের কর্মচারী নিয়ে স্বপন কুমার আইচের পরিবার। যারা করোনা ভাইরাসের এই ক্রাইসিস মুহুর্তে জনবান্ধব নানা কার্যক্রমের কারণে ইতোমধ্যে মতলব দক্ষিণ উপজেলাবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মানুষের উপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা কাটিয়ে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার জন্য সরকারের বিভিন্ন দফতর নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের দোরগোঁড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকেও পুলিশ সদস্যরাই বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সারাদেশে পুলিশের ভূমিকা যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ দিক থেকে পিছিয়ে নেই মতলব দক্ষিণ থানা।

বিশেষ করে গত মার্চ মাস থেকে করোনা ভাইরাস নিয়ে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথ কর্তব্য পালন করে যাচ্ছে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের সকল জনবল। যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ।

তিনি এ থানায় যোগদানের পর থেকে মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি হ্রাস পেয়েছে বহুগুণ। একই সাথে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। সাধারণ জনগণ নির্ভয়ে ওসির কাছে গিয়ে সুখ দুঃখের কথা বলতে পারায় বর্তমানে এ থানার আইন-শৃঙ্খলায় যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। এ ছাড়া তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুলিশিং সিস্টেমের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সে অভিজ্ঞতার নির্যাসের সুবিধা এ উপজেলার সাধারণ জনগণ ভোগ করছেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া খেটে খাওয়া মানুষের পাশে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়ায়।

এর মধ্যে চাঁদপুর জেলা পুলিশ থেকে প্রাপ্ত অনুদান মতলব দক্ষিণ থানার মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৭৫৪ জন কর্মহীন অসহায় পরিবারের প্রত্যেককে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল এবং আধা কেজি তৈল খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া গত রমজান মাসে মতলব দক্ষিণ থানার উদ্যোগে কর্মহীন রিকশা চালক, ভ্যান চালকসহ ২৫০ জনের মাঝে রান্না করা খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়।

কমিউনিটি সংক্রমন এড়াতে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতে অবাধে লোকজন যাতায়াত করতে না পারে সে জন্য মতলব সেতু এবং মতলব পেন্নাই সড়কের নায়েরগাঁও এবং দাউদকান্দি উপজেলার সীমানায় পুলিশের টহল চৌকি বসানো হয়েছে।

এদিকে সচেতনতার জন্য নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ।

তিনি আরও জানান, মতলব দক্ষিণ থানায় রাতে নিয়ম অনুযায়ী ৪টি প্যাট্রোল টিম পরিচালনা করার নিয়ম থাকলেও গেল রমজান ও করোনা পরিস্থিতির কারণে মোট ৬টি প্যাট্রোল টিম পরিচালনা করে আসছি। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
কাজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে স্বপন কুমার আইচ প্রিয় চাঁদপুরকে বলেন, জনসেবা করার মজাই আলাদা। মানুষ হিসেবে তারপরও কোন গ্যাপ থাকতে পারে। তবে আমার মনে হয় সাধারণ মানুষ আমার সাথে মন খুলে কথা বলতে পারে। আমি সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সেবক হয়ে বন্ধু হয়ে কাজ করতে চাই। জবাবদীহীতার মধ্যে থাকতে চাই। তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত ভাবে আমার দুই মাসের রেশন ৭০ কেজি চাল এবং ১২ কেজি ডাল কর্মহীন অসহায় পরিবারের মাঝে বন্টন করে দিয়েছি।

ব্যক্তিগত ভাবে আইসোলেশনে থাকা এক পরিবারকে রাত ১১ টায় যোগাযোগ করার পর শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় চাল ডাল তৈল আলু পিঁয়াজ ইত্যাদি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছিয়ে দিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বপন কুমার আইচ বলেন, আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্য দায়িত্ব পালন করা সব সময়ই আমার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। আমি এ চ্যালেঞ্জ উপভোগ করার চেষ্টা করি। আমার অফিসার, কনেস্টবলসহ সকল জনবল আমাকে সহযোগিতা করে থাকে। আমি সবসময় তাদের সহযোগি থাকার চেষ্টা করি।

স্বপন কুমার আইচ চাকরি জীবনে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দক্ষতার সাথে কাজ করেন। সেই কাজের মূল্য হিসেবে দুইবার ইউএন অবজারভার হিসেবে ইউনামিড দারপুর সুদানে জাতিসঙ্ঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন এবং দুইবার শান্তি রক্ষা পদক লাভ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে স্বপন কুমার আইচ দুই কন্যা সন্তানের জনক। বড় মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোট মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। স্ত্রী মুক্তা বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

Facebook Comments

Check Also

সমতলে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা

মনিরুল ইসলাম মনির : ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ রসালো ফল মাল্টা। ফলটি প্রধানত পাহাড়ি অঞ্চলের হলেও এখন …

vv