ব্রেকিং নিউজঃ
Home / টকশো / আঁধারিক গাম্ভীর্যে আলোর চঞ্চলতা আনতে ভোরের সূর্য হবে মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন

আঁধারিক গাম্ভীর্যে আলোর চঞ্চলতা আনতে ভোরের সূর্য হবে মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন

আবু সাইদ : ভালোবাসার দায়বদ্ধতা থেকে আলো ছড়ায় এমন প্রদীপ জ্বালানোর চিন্তা মাথায় ঘুরছিল এক দল তরুণের। সময় তখন ২০১৮ সালের শেষের দিকে। ক’জন উদ্যমী দেশপ্রেমী সমাসেবক। তাদের লালিত চিন্তা ভাগাভাগি করল। আশ্চর্য এবং আশার কথা-সেদিন সবাই এক বাক্যে হ্যাঁ বলেছিল।  তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- জাপান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জসীম উদ্দিন, স্বপ্নীলকন্ঠ সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদ কচুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি কবি আলী আক্কাস তালুকদার, আব্দুল হাই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ডাঃ মোঃ আব্দুল হাই, বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক লেখক মোঃ মহসিন হোসাইন,প্রমুখ।  তারপর তাদের সবার এগিয়ে যাওয়ার গল্প।

চলে এলো সেই আলো ছড়ানোর শুরুর দিনটি। কঠিন বাস্তবতা, অপ্রত্যাশিত বাধা ও সাময়িক দুর্বলতা ডিঙিয়ে ‘মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসুন’ এই শ্লোগানকে আঁকড়ে ধরে ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে জ্বলতে শুরু করলো ‘মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠনটি’।

শুরুর পথটা অমসৃণ থাকলেও ‘মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন’ এর ছায়াপথ এখন অনেক স্বাপ্নিক ও ফুলেল। এর দায় যাদের উপর বর্তেছে তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির পথ চলা এখন আদর্শ।

মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন আজ একটি বাতিঘর, একটি আলোকশিখা, প্রজন্মের পথদ্রষ্টা। অথচ পথচলার প্রারম্ভে এত কিছু ছিল ভাবনাতীত। কিন্তু পরিশ্রম ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা যে স্বপ্নকেও বাস্তবায়ন করতে পারে তার উদাহরণ আবার উপস্থাপন করলো ‘মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন’।

আলো ছড়ানোর অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে মার্চ মাসে মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে কচুয়া আব্দুল হাই ফাউন্ডেশনে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য ‘পথেরশিশুর পাঠশালা’ নামে একটি পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেছে। সপ্তাহের তিনদিন পড়াশোনা চলে এই পাঠশালায়। চার থেকে শুরু করে বারো বছর বয়সী শিশুরা এখানে শিক্ষা নেয়। সেই সাথে অসহায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠা করা হয় মানবতার ডাক একাডেমী। তাদের সবার একি কথা শিক্ষার বাহিরে কেউ নয়। শিক্ষাই পারে একটি জাতিকে পরিবর্তন করতে।

সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত শিশুরাই এই একাডেমীর শিক্ষার্থী। বর্তমানে প্রায় ১২০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে এই পাঠশালা ও একাডেমীর পাঠদান চলছে। এদের অনেকেরই দু’বেলা খাবার জোটে না। কিন্তু তারা পড়া-লেখার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী। একটি দিনও তারা স্কুল মিস দিতে চায় না। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুলে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র দেখানো হয়। ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মাঝে মাঝেই স্বেচ্ছাসেবকরা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নানা ধরনের খাবার নিয়ে আসেন। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এক্সট্রা কারিকুলাম হিসেবে গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি শেখানো হয়।

এ প্রতিষ্ঠানের কোনো দারোয়ান নেই, নেই কোনো স্কুল ভ্যানও। বিদ্যালয় খোলা, বন্ধ, বাচ্চাদের ডেকে আনা, সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো দু:সাধ্য কাজ স্বত:স্ফূর্তভাবে করে থাকেন কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকা। পথেরশিশুর পাঠশালায় শিক্ষাদানে রয়েছেন চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং মানবতার ডাক একাডেমীর শিক্ষায় আছে মমতাময়ী দুইজন শিক্ষিকা। তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাচ্চাদের শিক্ষা দেন। সপ্তাহে ছ’দিন নিয়ম করে ক্লাস নেন তারা। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবটুকুই তারা উজাড় করে দেন এসব শিশুদের।

‘মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন’ এর কর্মীরা যেহেতু এই এলাকার জনগণকে নানা বিপদ আপদে সাহায্য করেন সেজন্য বাচ্চাদের মা-বাবারা তাদের উপর ভরসা করতে পারছেন। ‘মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন’ এর স্বেচ্ছাসেবকরা বাচ্চাদের অভিভাবকদের শিক্ষার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টার পাশাপাশি অভিভাবকদের নিয়ে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কর্মমুখি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।ফলে বাচ্চাকে কাজে না পাঠিয়ে মা-বাবারা তাদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন। নতুন অনেক মা-বাবাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাদের বাচ্চাদের এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য।

‘মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠনের’ এর স্বেচ্ছাসেবকরাই মূলত এ প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। তারা সময় পেলেই গিয়ে ক্লাস নিয়ে আসেন, ছাত্র-ছাত্রীদের খোঁজখবর নেন, তাদের জন্য মাঝে মাঝে খাবার নিয়ে যান। ‘মানবতার কল্যাণে একাত্ত্বতা’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কাজ শুরু করে এরপর রক্তদান কর্মসূচি, ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনগণকে সাহায্য প্রদান, প্রতিবন্ধীদের সহায়তাসহ নানা রকম জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে ‘মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন’। তারা যে কাজগুলো করেন তার সবগুলোই সামাজিক কল্যাণমূলক, লাভবিহীন এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত।

তারা বাংলাদেশের দরিদ্র জনগণের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনাকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত করে তুলতে হবে সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত শিশুদের। স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে সবার কাছে। ‘মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন’ চায় সব মানবপ্রেমী মানুষ তাদের সাথে যুক্ত হোক এবং দেশের সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর কাজে তাদের সহযোগিতা করুক।

আঁধারিক গাম্ভীর্যে আলোর চঞ্চলতা আনতে ভোরের সূর্য হবে মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন। প্রভাতি দোয়েল হয়ে পাঞ্জেরির ঘুম ভাঙাবে মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েলকে সজীব খানের শুভেচ্ছা

অমরেশ দত্ত জয় : চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় নৌকা প্রতীকে অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল মনোনীন …

vv