ব্রেকিং নিউজঃ
Home / মতামত / অপ্রিয় হলেও সত্যি : দলের কাকে করবো ভক্তি?

অপ্রিয় হলেও সত্যি : দলের কাকে করবো ভক্তি?

রাজনীতি ও ত্যাগ (প্রভাষক ডাঃ শেখ মহসীন): ১৯৯৪ সালে ছাত্র রাজনৈতির গ্রুপিংয়ের ফলে চাঁদপুর সরকারী কলেজে ভর্তি করাতে জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, মাহফুজুর রহমান টুটুল ভূ্ঁইয়া, জাহিদুল ইসলাম রোমান, আইয়ূব আলী বেপারী, জাফর ইকবাল মুন্না, মরহুম জাফর উল্লাহ খান ও রিপন ভদ্র সহ (নাম খেয়ালে না আসা) আরো অনেকের সহযোগিতার মাধ্যমে বি.বি.এসে ভর্তি হই। কলেজে এসেই কলেজ মাঠে আমার নিজস্ব টিম নিয়ে ক্লাসের শুরুতেই দলের শ্লোগান দিয়ে কলেজ মাঠ প্রদক্ষিণ করতাম।

কখনো ক্লাশে যাওয়া জুটতো, কখনো জুটতো না। কারন কলেজের আন্দোলন শহরব্যাপী ছড়িয়ে যেতো। শহরের নাজিরপাড়া ছিলো আমাদের জন্য একপ্রকার আতংক। সর্বজন শ্রদ্ধেয় মরহুম আবদুল করিম পাটওয়ারী বাড়ির নেতাকর্মীগণ আন্দোলনে এসে সম্পৃক্ত হলে কলেজ আঙিনায় ‘বল’ পেতাম।

তখন ছাত্রলীগ দু’ভাগে বিভক্ত ছিলো। এতোদ্ব সত্বেও কলেজ মাঠেই ছাত্রদলের নেতা মরহুম চান্দু ও জহির গংদের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিলো কয়েকবার। সহযোদ্ধা বন্ধু সাইফুল ইসলাম সুমন, কবির হাওলাদার, মান্নান, তুহিন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ টিম থাকার ফলে তৎকালীন আন্দোলনের নতুন কৌশল হিসেবে আমাদেরকে উজ্জীবিত করার জন্য ইউসুফ গাজী, মরহুম লুৎফুর রহমান পাটওয়ারী, রফিকুল ইসলাম ভূ্ঁইয়ার নেতৃত্বে জসিম উদ্দিন পাটওয়ারীর সার্বিক সহযোগিতায় ও তত্বাবধাণে আজকের কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন মারুফ কে দিয়ে

আমরা ক’জন ‘মুজিব সেনার’ জেলা কমিটি গঠন করেন।

এতে সাইফুল ইসলাম সুমন (সাবেক প্যানেল মেয়র) কে সভাপতি, মোঃ কবির হাওলাদার (চাঁদপুর পৌর কর্মকর্তা) কে সাধারন সম্পাদক, আমি প্রভাষক ডাঃ শেখ মহসীন কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আমরা ক’জন মুজিব সেনা জেলা কমিটি গঠন করেন। এতে আন্দোলনের এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। আমার গ্রুপের ছেলেগুলো ছিলো ‘মার্শাল আর্ট’ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ফলে ধাওয়া দেওয়াটাই বুঝতাম; পাল্টা ধাওয়ায় পিছু হটতাম না। বিজয় শতবার হলেও ৮০ ভাগ বিজয় এসেছে ইট-পাটকেলের আঘাত খেয়ে। কিরিজ ও রাস্তায় ছেনির শানিত ধ্বনির হুমকি মোকাবেলা করেছি অনেকবার। পুলিশের লাঠিপেটা ছিলো সাপ্তাহিক বোনাসের মতো। যে বোনাস থেকে, তখনকার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন পাটওয়ারীও রেহাই পায়নি।

১৯৯৫ সাল। এমন একটানা দুইদিন নেই, যে দুইদিন বাড়িতে ঘুমাতে পেরেছি। কারন সকালে ডাক্তারি ছেড়ে চাঁদপুরের ঢালীরঘাট থেকে ১০-১৫ টি বাই-সাইকেল ভাড়া করে, একেক সাইকেলে তিনজন করে এসে শহরের নতুনবাজার আহমদিয়া মাদ্রাসায় সাইকেলগুলো রাখতাম। এরপর মিছিল, মিটিং ও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতাম। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া’র চিত্র ছিলো নিত্যদিনের। কখনো আহমদিয়া মাদ্রাসাতেই অনাহারে ঘুমিয়ে পড়েছি, কখনো পুলিশের দৌড় খেয়ে সদর হাসপাতালে রোগীর পাশে শুয়ে-বসে রাত কাটিয়েছি। কখনো কখনো গভীর রাতে আজকের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওসমান গণি পাটওয়ারীর ছোট ভাই, তখনকার জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন পাটওয়ারীর বাড়িতে ২০/২৫ জন গিয়ে খেয়ে-ঘুমাতাম। হাজী সাহেব আমাদের নিজের হাতে ভাত-তরকারী খাওয়াতেন।

এ আন্দোলন সংগ্রামে জসিম পাটওয়ারী ও আবু পাটওয়ারীর সাথে করে শহরের আন্দোলন শেষে যাদের নিয়েই বাসায় আসতেন, তাদের বৃদ্ধা মা রাত্রি জেগে আমাদের অতি আদরে আপ্যায়ন করাতেন। কোনদিন খালাম্মার মুখে কষ্ঠের ছাপ চোখে পড়েনি। আজ জসিম উদ্দিন পাটওয়ারীর মা (আমরা যাকে খাল্লামা বলে ডাকতাম) তিনি পৃথিবীতে নেই। আমি এ মহিয়সী মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনা করি।

কখনো কখনো নিরাপত্তার স্বার্থে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার কাচারিতেও সাইকেল রেখে শহরে আসতাম। রাজনীতিতে আসতে যিনি প্রথম প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। আমার ক্লাবগুলোর বলিষ্ঠ পৃষ্টপোষকতাও দিয়েছিলেন তিনি।

তথনকার প্রেক্ষাপটে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মরহুম লুৎফুর রহমান পাটওয়ারী, রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, তাফাজ্জল হোসেন (এসডু) পাটওয়ারী,ইউসুফ গাজী, মরহুম আবদুল মান্নান মাস্টার ও ইঞ্জি আবদুর রব ভূঁইয়া আন্দোলনে প্রেরণা জোগাতেন অবিরাম।

আন্দোলনের মাঠে আবু পাটওয়ারী, মরহুম নজরুল ইসলাম, মামুন মাহমুদ, বাবু ঝন্টু দাস, অরুপ কর্মকার, শোয়েব, ছাত্রলীগ নেতা মরহুম জাকারিয়া, ওয়ারল্যাসের আলমগীর গাজী, মোবারক গাজী, আবু গাজী,আবদুস সামাদ টুনু,রুবেল, হাবিবুর রহমান লিটু, সান্তনু রায় চৌধুরী, সৈকত, ওয়াহেদ ইকবাল নিটু,শাহজাদা আখন্দ, জিয়াউল আমিন দিপু, ফেরদৌস মোর্শেদ জুয়েল, আতাউর রহমান পাটওয়ারী, শিপন পাটওয়ারী, সোহেল পাটওয়ারী, জাহাঙ্গীর বেপারী,রাজিব রায় চৌধুরী, মাহতাব হোসেন রাসেল, জাহাঙ্গীর ঢালী, শরীফ পাটওয়ারী, বড়স্টেশনের ফরিদা ইলিয়াস, শেখ আহমেদ, মনা, ইউসুফ বন্দুকসী, আজিজুর রহমান খোকা,মহুরী দুলাল, যোদ্ধা রিপন, আমিন ও শাহেদ যারা মাঠ গরম করেছিলো (আরো নাম খেয়ালে না আসা) অনেক ত্যাগী নেতাদের আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মাঠে আজ এতো জয়জয়কার।

১৯৯৪’র নভেম্বরে পৌর পার্ক মাঠে ও (ছায়াবনীর মোড়) তখনকার নুপূর স্টুডিও’র সামনে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছি। আর চলমান এ আন্দোলন-সংগ্রাম করে ১৯৯৫ সালের ঠিক ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনকালে কালিকাড়ীর মোড়ে পুলিশের গুলিতে মারাত্নকভাবে আহত হই।

১৯৯৬ তে দল ক্ষমতায় আসলে যুবলীগ করার কারনে, দলের সকল প্রকার সুবিধা থেকে বঞ্জিত হই। নেতাগণ ভুুলে গেছেন নির্যাতিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের কথা। পরবর্তীতে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে, হাইব্রিডরা ধনবান ও বিত্ববান হয়ে ডানা মেলে উড়ে পালিয়ে যান।

১৯৯৬ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারী। বিএনপির একতরফা প্রহসনের নির্বাচন ঠেকাতে গিয়ে সেনাবাহিনীর তাঁক করা রাইফেল-ব্যানট দু’হাতে সরিয়ে শহরের আক্কাস আলী স্কুলে ঢুকে ব্যালট বক্স কেড়ে নিয়ে প্রহসনের এই ভোট কাটা বন্ধ করে দেই। এবং ব্যালট বক্স নিয়ে নেচে-গেয়ে কালিবাড়ি (তখনকার নির্মাণাধীন শপথ চত্বরে) এসে রডের সাথে জুলিয়ে দেই। ফের আবার যাই, বেলট বক্স আনতে। তখন সেখানকার প্রতিটি রুমে-রুমে (বুথ) ব্যালটে আগুন জ্বালিয়ে দেই।

দৈনিক ইনকিলাব ও আল-মুজাদ্দেদ পত্রিকার সাংবাদিকদ্বয় সে ফুটেজ গ্রহণ করে। ১৬ই ফেব্রুয়ারী পত্রিকায় আমার ছবি দিয়েই হেডলাইন করা হয়।

আরেকটি বক্স নিয়ে যখন বেরিয়ে আসি তখন আর্মি-জনতার হাতে নির্মম ভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হই ও সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় আমার অচেতন দেহখানা নেতাকর্মীগণ টানে একদিকে, পুলিশ টানা-হেচড়া করে অন্যদিকে।

সেদিন আমাকে উদ্ধারকারী মিল্টন ভাই, জাকির ভাই, ভিপি পলাশ, লিটন, মুজিব সহ (নাম খেয়ালে না আসা) নেতাকর্মীদের বিচক্ষণতায় শহরের গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জাতীয় পার্টির নেতা মরহুম অ্যাড. মাহবুব পাটওয়ারীর বাসায় আমাকে লুকিয়ে রাখা হয় এবং তার স্ত্রী আমার জীবন বাঁচাতে ফ্রিজের সকল বরফ ও মাছের পোটলা আমার নিথর দেহের প্রতিটি আঘাতে আঘাতে বরফ ও মাছ-মাংশের শক্ত পোটলা লাগিয়ে জ্ঞান ফিরাতে সাহায্য করেন। এ ঘটনাগুলোর সাক্ষী আজও খুঁজি আমি ।

(এই ঘটনাগুলো শেয়ার করতে গিয়ে, কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শেখ মহসীন)

জ্ঞান ফিরলে আমাকে সু-কৌশলে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মরহুম লুৎফর রহমান পাটওয়ারীর বাড়িতে নিয়ে আসেন। এখানেও পাটওয়ারী সাহেবের স্ত্রী (লিজন পাটওয়ারীর আম্মা) আমাকে গরম দুধ ও ঔষুধ খাওয়ান। তখন আমার টিমের সদস্যগনের প্রতি বন্টিত দায়িত্ব ছিলো এ অঞ্চলের আন্দোলনকারীদের সাথে খলিল গাজীর ম্যাচে আক্রমন করা, কারন সেখানে ছাত্রদলের ক্যাডারদের আস্তানা ছিলো।

পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে শহরের কোন হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে গ্রামের বাড়ি রঘুনাথপুরে গিয়ে চাঁদপুর থেকে ডাক্তার নিয়ে চিকিৎসা করাই যা তখনকার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীগণ ভালোভাবে বিষয়টি জানেন। যার ফলশ্রুতিতে আজকের কঠিন রোগ ‘স্কেলিটোন এফেক্ট ও স্কেলেরোইডিমার’ রোগের মারাত্নক যন্ত্রনা ভোগ করছি। দলের আজ সু-সময়ে কেউ কি অভাবনীয় এই ত্যাগী কর্মীর খোঁজ রেখেছেন? দলের দুর্দিনে তো আঙুল চোষিনি, দূর্বার আন্দোলন করেছিলাম। কেউ আজও তো জানতেও চাননি? তখন আমরা কি কোন লেবারি দিয়েছিলাম, না দল আজকের এই জায়গায় আনতে মরন পণ মাঠে নিয়ে নির্যাতিত হয়েছিলাম। এ কথার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কোন প্রকার আয়নাপড়া ও তদন্দের দরকার আছে কি?

আক্কাস আলী স্কুলের ভোট কেন্দ্র দখল করার আগে, জেলা আওয়ামীলীগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মান্নান মিজি সহ সকাল সোয়া ৯’টায় তালুকদার ঘাট সংলগ্ন হাজী বাড়ি স্কুলের ভোট কেন্দ্র বন্ধ করে দেই। আসার পথে ঘাট থেকে কোন প্রকার লঞ্চ না ছাড়ার নির্দেশনা দিয়ে শহরে এসে, মাতৃপীট স্কুলের ভোটকেন্দ্র বন্ধ করি, তখন আন্দোলনের নেতৃৃত্বে দেন, জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারন সম্পাদক, জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী। এ আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐক্যবন্ধ নেতৃত্ব দেন জাহিদুল ইসলাম রোমান, জাফর ইকবাল মুন্না,আলহাজ্ব ওচমান পাটওয়ারীর আপন ভাগিনা ছাত্রলীগ নেতা, দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নির্যাতনের স্বীকার হয়ে অকাল শহীদ জাফর উল্লা খান, (আমি ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ও সকল ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীর পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি), আইয়ুব আলী বেপারী,রিপন ভদ্র, জেলা মুজিব সেনার সভাপতি, সাবেক প্যানেল মেয়র সাইফুল ইসলাম সুমন, সাধারন সম্পাদক কবির হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আমি প্রভাষক ডাঃ শেখ মহসীন। সেখানে জাতীয় পার্টির গোলাম-উন-নবী লিটন সহ আরো সমবয়সী, সিনিয়র,জুনিয়র, অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্ল্যেখ্য যে, পুরানবাজার থেকে দলীয় নেতাকর্মীগণ নতুন বাজার আসলে আন্দোলন হতো বেগবান। সেখানে নাছির উদ্দিন আহমেদ, সালাউদ্দিন বাবর, রহমান হাওলাদার,লিলু হাওলাদার, মফিজ ঢালী তাদের ভূমিকা ছিলো অপরিসীম।

২০০১ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে আবার এ হতাশাগ্রস্থ কর্মীদের স্থান হয় নতুন বাজারমুখী। ওমর পাটওয়ারীর সহযোগিতায় রাত-বিরাত কাটিয়ে দেই আজকের জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারীর গদিতে ; সেটি ছিলো অবহেলিত,নির্যাতিত, নিপীড়িত ও বিভিন্ন এলাকা থেকে বিতাড়িত নেতাকর্মীদের লঙরখানা।সেখানে ফ্রি খাওয়া ও সালা বিছিয়ে শোয়া ছিলো আমার মতো আরো অনেক নেতাকর্মীদের নিত্যদিনের। যুবলীগ করতে গিয়ে যিনি সবচেয়ে বেশি প্রেরণা দিয়েছেন ইউসুফ গাজী, তাফাজ্জল হোসেন (এসডু) পাটওয়ারী ও নাজমুল হোসেন পাটওয়ারী। সে স্মৃতি ভূলার নয়।

ওয়ান ইলেভেনের ১৬ই ডিসেম্বর। সেনা সমর্থিত সরকারের উৎপাতের সকল দলের নেতাকর্মীরাই উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় ছিলেন। কেউ কেউ ছিলেন পলাতক। কেউ কেউ লাঞ্চনা ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। ফলে নেতাকর্মীগণ পার্টি অফিসে আসতে ভয় পেতো। সেদিন ১৬ই ডিসেম্বরে শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়ার জন্য রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উল্ল্যেখযোগ্য কোন নেতাকর্মী না আসায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যে দু’চারজনই ছিলেন তাদের মধ্যে কেউ ফুলের দু’পাশে তোড়ায় ধরতে কেই রাজি হয়নি। তখন সদর উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্স ছিলাম আমি প্রভাষক ডাঃ শেখ মহসীন। সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন আবিদুর রহমান টিপু। পার্টি অফিসে সেদিন ফুলের তোড়া ধরাধরি নিয়ে বাক-বিতন্ডা ও সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে নেতাকর্মীরা। ফুলের তোড়া যে ধরবে সে নেতা হিসেবে হতে পারেন গ্রেফতার। নিশ্চিত এমন নির্যাতনের কথা জেনেও বেদিতে আট-দশজনের একটি মিছিলসহ বিরত্বের সহিত যাই। ঐ আট-দশজনের মিছিলের সাথেই ফুলের তোড়ার একপাশে আমি অন্যপাশে টিপু; দুইজনে গ্রেফতারের ভয়কে উপেক্ষা করে ফুল দেই বেদিতে।

বাংলাদেশের শ্রেষ্ট ও মডেল কমিটি ছিলো চাঁদপুর জেলা যুবলীগ। যার সভাপতি ইউসুফ গাজী, সাধারন সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন (এসডু) পাটওয়ারী। তখনকার যুবলীগের স্বাদ ও ঘ্রাণে জেলাবাসী ছিলো মুহ্যমান, ফলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ ছিলো উজ্জীবিত। এ অঞ্চলের দলকে উর্বর করার জন্য যে বীজ বপন করেছিলেন মরহুম আবদুল করিম পাটওয়ারী ও সোনা আখন্দ। তাদের রোপনকৃত বীজ গজাতে পানি দিয়েছিলেন ফজলুল হক সরকার, প্রয়াত গনেশ কর্মকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী, মরহুম আবদুল মালেক ভূঁইয়া, মরহুম লুৎফুর রহমান পাটওয়ারী, আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী, (যাকে দলের দূর্দিণের অক্সিজেন বলা হতো) রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, তাফাজ্জল হোসেন (এসডু) পাটওয়ারী, হাজী বিল্লাল আখন্দ সহ আরো অনেকে।

দলের সে বীজ থেকে গজানো চারা পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিনত করতে অতি যত্নে আগলে রেখে নার্সিং করেছিলেন- আজকের জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ইউসুফ গাজী ও কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী।

সে গাছটিকে ফলবান করেছেন- আজকের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। এই ফলবান গাছটির নার্সিং করতে গিয়ে মরহুম অ্যাড.সিরাজুল ইসলাম, মরহুম জাকারিয়া চৌধুরী,মরহুম লুৎফুর রহমান পাটওয়ারী, মরহুম অ্যাড.আবদুল আউয়াল, মরহুম অ্যাড. শফি উল্লাহ এমপি, মরহুম আবদুল মালেক ভূঁইয়া,মরহুম খালেচুর রহমান জাকির,মরহুম অ্যাড. আবু জাফর (নাম খেয়ালে না আসা) আরো অনেকের আত্নত্যাগে আওয়ামী পরিবার হয়েছে উর্বর। গাছ হয়েছে আজ ফলবান। ফলে গাছের বিভিন্ন ডালে নব্য পাখিরা ফুলের রস চুষলেও ত্যাগী নেতাকর্মীরা আজ রোহিঙ্গা শরনার্থীর চেয়েও অবহেলিত! অভিবাবকহীন আজ ত্যাগী নেতাকর্মীগণ কার কাছে গিয়ে, কার মন খাবে? জেলায় দলের বহুমাত্রিক নেতৃত্বের কারনে নেতাকর্মীরা আজ দ্বিধাবিভক্ত। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারনেই প্রতিটি ত্যাগী নেতাকর্মী একপ্রকার জন্ডিসের রোগীর মতই দিন কাটাচ্ছে।
আমার কড়োজোড়ে অনুরোধ থাকবে
এই নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ভাগাভাগি করে কারো (মাই ম্যান) না বানিয়ে এদের দলের লোকের মতোই দেখুন। তাদেরকে কাজে লাগান।

ছোট থেকে বড় হয়ে সংসদে নিজ এলাকার এমপি টিভিতে দেখার বড় ইচ্ছা ছিলো। ডাঃ দীপু মনি এমপি হয়ে, প্রভাবশালী মন্ত্রীত্ব নিয়ে সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ও এ অবহেলিত অঞ্চলকে করেছেন শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোন। বাস্তবায়ন করেছেন বড় বড় জণগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। পিছনে বসন্তের কোকিলদের আনাগোনা ও রাজনৈতিক ডিস্টার্ব না থাকলে এ এলাকা হতো দেশের সেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর জেলা। “

মূলত দল করার প্রেরণা পাই; যার পূর্ণাঙ্গ পরিবার বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। চাঁদপুর জেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূইয়া, জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, টুটুল ভূঁইয়া’র মাধ্যমে ইউসুফ গাজী ও লুৎফুর রহমান পাটওয়ারীর প্রেরণায়।

আর সামাজিক সংগঠনের প্রেরণা পাই ‘দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের’ প্রধান সম্পাদক সাংবাদিক গুরু কাজী শাহাদাতের কাছ থেকে। একজন বেকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য ধারে ধারে ঘুরে কর্মের সন্ধান পাই, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায়। আরো অনেকের নাম এ মুহুর্তে স্মরনে না আসা সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।

নির্যাতিত ও বঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীগণের পক্ষ থেকে আমার শত-কোটি অনুরোধ স্থানীয় সাংসদ মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ও জেলা আওয়ামীলীগের কর্ণধারদ্বয়ের প্রতি। আমাদেরকে আর কেউ কাহারো বানাইয়েন না। আমরা দলের হয়ে কাজ করতে চাই। যেরুপ মরন পণ করে ছিলাম দলকে ক্ষমতায় আনতে । আবার রাজপথে আসতে হলো আমাদেরই, মোকাবেলা করতে হয়েছে আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ( তখনকার বিরোধীদলের নেত্রী)’র ডাকে ও জেলা নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মীদের সাথে বরন করে নেই অসহযোগ আন্দোলন। অবিরাম আন্দোলনের ফলে ডাক্তারি পেশা সহ সকল কাজকর্ম পন্ড হয়ে যায়। দল ক্ষমতায় আসে; বহুমাত্রিক নেতৃত্বের কারনে আজ আমরা ক্ষমতায় থেকেও বিরোধী দলের মতো সেই জন্ডিসের রোগী হয়ে যাই। দলের স্বাদ, গন্ধ আজ আমাদের স্পর্শ করেনা। কসম খোদার, সকল ক্ষমতাসীনদেরই আল্লাহ নামিয়ে আনেন। তাই বলবো আমাদেরকে দলের করে নিন।

বিশ্ব মানবতার মা ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রধান সেনাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা তুলে ধরার লোকের আজ বড়ই অভাব। শুধু টেন্ডার পাওয়া সহ প্রকল্প ভাগাভাগির প্রত্যাশায় চাটুকারিতা করে বেড়াচ্ছে এক শ্রেনীর লোক। বসে বসে রোহিঙ্গা শরনার্থীর চেয়েও খারাপ অবস্থায় শুধু চোখ ও বিবেক বুলাচ্ছে উভয় দিকে,আর তামাসা শুধু দেখেই চলেছে সকলে। তখন সোনার দেহ ধ্বংস করেছিলাম দলের জন্য আজকের এই কর্মী ভাগাভাগির জন্য নয়। ফলে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীগণকে কেউ ভাগাভাগি করে দেখছেন; তখন দলের জন্য আন্দোলন করেছিলাম, ব্যক্তি কারো জন্য নয়। তাই বলি, অপ্রিয় হলে সত্য, আমি হবো কার? দলের, নাকি কোন ব্যক্তির নাকি সরকারের? বিবেকচক্ষু দিয়ে দেখার কি কেউ আছেন? কেউ আছেন?

প্রভাষক ডাঃ শেখ মহসীনের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে অতি দুঃখে ও ক্ষোভে এমনটিই তিনি জানান প্রতিবেদক মাহফুজুর রহমানকে …..

তিনি একটি ছন্দ প্রায়শই বলেন, ‘পাটওয়ারী স্কোয়ার == ভূঁইয়া, আখন্দার! এই নিয়েই চাঁদপুরের রাজনৈতিক সমাচার।

(অসুস্থ এই লোকটি অনিচ্ছাকৃত অনেকের নাম খেয়াল করার চেষ্ঠা করেও ব্যর্থ হয়ে আপসোস করেন)

Facebook Comments

Check Also

মরেছি অনেকবার; বাঁচার জন্য নেই কোন হাহাকার !

১৯৮৫ সাল; গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর উপজেলার পিরোজ আলীতে ভয়ঙ্কর বণ্যপশুর মারাত্নক আক্রমন থেকে রক্ষা পাই। …

vv