ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / অতিরিক্ত গরমে ডাবের কদর
বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছে ডাব বিক্রেতা।

অতিরিক্ত গরমে ডাবের কদর

মনিরুল ইসলাম মনির : বৈশাখের দুপুরে আকাশটা যেন জ্বলন্ত চাতাল। মনে হচ্ছে আকাশ থেকে মাটিতে অগ্নিবান নামছে। এ খরতাপে হাঁফিয়ে উঠেছেন সবাই। ক্লান্তি দূর করতে মতলব উত্তরের ছেংগারচর বাজারের ডাব বিক্রেতা সোহেল স্লোগানের সুরে বলছেন, ‘গরমে ডাব খান প্রাণ জুড়ান।’ তার এ আহ্বানে ক্লান্ত অনেক পথচারী তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের পানি পান করছেন।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সোহেলের কাছ থেকে ডাব কিনে পান করার সময় ক্রেতা হাসানের সঙ্গে কথা হয়।

তিনি বলেন, ডাবের পানি অত্যন্ত উপকারী একটি প্রাকৃতিক পানীয়। কোনো রকম কৃত্রিমতার ছোঁয়া ছাড়াই সরাসরি ডাব থেকে পাওয়া যায় সুমিষ্ট এ পানি। বেশ কিছু গুণের কারণে ডাবের পানি সবার কাছে কদর পায়। বিশেষ করে গরমের এই সময়টাতে নিজেকে তরতাজা রাখতেও ডাবের পানির তুলনা হয় না।

গরমে ক্লান্তির দুপুরে সুমিষ্ট স্বাদের পানি পান এনে দেয় অন্যরকম তৃপ্তি। যে কারণে অন্য কোনো পানীয় বাদে সাধারণত আমি রাস্তায় ডাব পেলে কিনে পান করি।

তার পাশে দাঁড়ানো উন্নয়নকর্মী শাহ আলম বলেন, ডাবের পানি যেমন উপাদেয় তেমনি স্বাস্থ্যকর। ডাবের পানিতে যে প্রাকৃতিক শর্করা ও মিনারেল রয়েছে তা শরীরকে শীতল ও আর্দ্র রাখে। ডাবের শাঁসে যে ক্যালরি রয়েছে তা কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যোদ্ধাদের স্যালাইনের বিকল্প হিসেবে ডাবের পানি দেওয়া হতো।
ডাব বিক্রেতা সোহেল জানান, গরমে ডাবের চাহিদা বেড়েছে। তবে, এবার ডাবের উৎপাদন কম হওয়ায় গত বছরের তুলনায় দাম অনেক বেশি। বড় ও মাঝারি আকারের একটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা। নিম্নমধ্য বৃত্তের চেয়ে বিত্তবান ক্রেতারাদের সংখ্যাই বেশি। দাম বেশি হলেও অনেকটা নিরাপদ জেনে অনেকে ডাব কিনছেন। তিনি আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাইকারীভাবে ডাব কিনে আনেন। প্রতিটি ডাবে খরচ পড়ে প্রায় ৪০ টাকা। ডাব আনতে দেরি হলেও বিক্রিতে দেরি নেই।

ডাব বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, বৈশাখের প্রচণ্ড তাপদাহে বিভিন্ন শরবত ও কোমল পানির চেয়ে ডাবের চাহিদা বেশি। কেননা অন্য ধরনের পানির তুলনায় ডাবের পানি শতভাগ নিরাপদ।

সোহেল ও আব্দুল খালেকের মতো মতলব উত্তরে প্রায় অর্ধশতাধিক ডাব বিক্রেতা স্থায়ী অথবা ভ্রাম্যমাণভাবে ডাব বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাবের পানিতে প্রচুর প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। যা ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে, শরীরে পানি শূন্যতা পূরণ করতে কচি ডাবের পানির বিকল্প নেই। একটি ডাবের পানিতে রয়েছে চারটি কলার সমান পটাশিয়াম। শরীরে প্রচুর পরিমাণে ঘাম ঝরা, ডায়ারিয়া অথবা বমির পর শরীরে পানি শূন্যতা দূর করতে ডাবের পানিকে খাবার স্যালাইনের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান মিথেন জানান, এই গরমে অনেকে তৃষ্ণা মেটাতে বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় ও রাস্তা ঘাটের শরবত পান করেন। এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিপরীতে একটি ডাব শরীরের নানা পুষ্টি সরবরাহ করে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে।

তিনি জানান, ডাবের পানিতে পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং ফ্লোরাইড আছে। এসব উপাদান শরীরে পানির সমতা ঠিক রাখে। এমনকি ডায়াবেটিসের রোগীরাও ডাবের পানি পান করতে পারেন। ডাবের শাঁসে আছে সামান্য প্রোটিন। এটি শরীরের জন্য ভালো। খাওয়ার আগে কিংবা পরে যেকোনো সময়ই ডাবের পানি পান করা যায়।

গরমে ক্লান্তি দূর করতে বেশি বেশি করে ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেন তিনি।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে শুক্রবার ১১৫ নমুনায় ৩ জনের করোনা শনাক্ত

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে নতুন করে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সনাক্তের হার ৩.১৫%। শুক্রবার …

Shares
vv